জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শুক্রবার নিউইয়র্ক সময় বিকাল ৫টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর, সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচির বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
মাহদী আমিন জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে একটি ভাষণ, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব বৈঠকে চারটি, শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে একটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি বক্তব্য ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য, জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশ অনুষ্ঠান, উদ্বোধনী অধিবেশন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য রূপান্তর, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে মিডওয়াইফের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরকালে মালদ্বীপ, ভুটান, হাইতি, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায় বলে জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বৈঠকে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষা, নতুন কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিন দেশ থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বোয়িং গ্লোবাল, গেটস ফাউন্ডেশন, ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়।
সফরের শেষ দিনে জেপি মর্গান চেস আয়োজিত ‘ব্রেকফাস্ট মিটিং উইথ ওয়াল স্ট্রিট’-এ অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ করে আর্থিক খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।
এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে শান্তি, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের পাশাপাশি তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি মোট আটটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে চারটিতে বক্তব্য দেন। নারী নেতৃত্ব, বিশ্ব ফার্স্ট স্পাউস সংলাপ এবং মাতৃমৃত্যু হ্রাসে মিডওয়াইফারির ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন বলে জানান মাহদী আমিন।
মাহদী আমিনের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তার সহধর্মিণী ও সরকারি প্রতিনিধিদল আরও প্রায় ৫০টি কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সব মিলিয়ে সফরে বাংলাদেশ প্রায় ৮০টি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিধিত্ব করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থের পাশাপাশি শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের মতো বৈশ্বিক বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















