কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম ও তার পরিবারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় জিডিটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, বিভিন্ন নম্বর থেকে অপ্রতিমের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। এ বিষয়ে কোনো জিডিও করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফেক আইডি খুলে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে তার বাবা জিডি করেছেন।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, শুক্রবার একটি নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচারের বিষয়েও তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। ওই দিনই তার বাবা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জিডি করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা।
পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতিমের কাছে থাকা তার মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রতিবেদকের নাম 




















