এই ধারা চলতে থাকলে অর্থবছর শেষে রেমিটেন্সের পরিমাণ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
অর্থবছরের ২০ দিন বাকি থাকতেই ৩৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ইতিবাচক প্রবাহ ঈদের পরও অব্যাহত থাকায় অর্থবছরের ২০ দিন বাকি থাকতেই প্রবাসী আয় পৌঁছেছে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ৩০ জুন ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে রেমিটেন্সের পরিমাণ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান শুক্রবার রেমিটেন্সের হালনাগাদ তথ্য দেন।
তাতে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনের প্রথম ১০ দিনে ১২০ কোটি ৩১ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের জুনের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।
সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাস ১০ দিনে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে এ বছরের ১০ জুন) ৩ হাজার ৩৯৬ কোটি (প্রায় ৩৪ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
রেমিটেন্সের এই পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। আর পুরো বছরের (২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন) চেয়ে বেশি ১২ শতাংশ।
জুনের শেষ ২০ দিনে এই হারে রেমিটেন্স এলে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের অঙ্ক ৩৬০ কোটি (৩.৬০ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাবে; যা হবে একক মাসের হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর অর্থবছর শেষে ছাড়াবে ৩৬ বিলিয়ন (৩ হাজার ৬০০ কোটি) ডলার।
গত বছরের জুনের প্রথম ১০ দিনে এসেছিল ৯৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। পুরো মাসে এসেছিল ২৮২ কোটি ২৫ লাখ (২.৮২ বিলিয়ন)।
এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত মার্চ মাসে, ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। মে মাসে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
টানা ৬ মাস তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে। জুনে ৩ বিলিয়ন ছাড়ালে টানা ৭ মাস হবে।
গত ২৮ মে দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। এ উৎসব সামনে রেখে পরিবার-পরিজনের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে বেশি টাকা পাঠানোয় মে মাসে বেশি রেমিটেন্স এসেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
গত মার্চে যে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার এসেছিল, সেটা রোজার ঈদের কারণে এসেছিল বলে জানান তিনি।
আরিফ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অতীতে দেখা গেছে, ঈদের পর সাধারণত রেমিটেন্স প্রবাহ বেশ কমে যায়। কিন্তু এবার দুই ঈদের পরও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
“তাই সব মিলিয়ে আমরা হিসাব করে দেখেছি, এবার অর্থবছর শেষে রেমিটেন্স ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
রেমিটেন্সে প্রতি ডলারে এখন ১২৩ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে জুন মাসের ১০ দিনে ১৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিনে গড়ে এসেছে ১২ কোটি ৩ লাখ ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হজার ৪৭৮ কোটি টাকা।
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা সঙ্কটে পড়া অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে।
আর রেমিটেন্সের ওপর ভর করে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভে ছিল ৩০ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার