
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ শুনানি হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এক মাস সময় চাওয়ায় পিছিয়েছিল শুনানি
প্রসিকিউশন জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশন এক মাস সময় চাওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন নির্ধারণ করেন।
গত ২৬ জুলাই ১৯ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক ১৩ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়।
কারাগারে ছয় আসামি, পলাতক ১৩
মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া এবং কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান।
সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ওসি শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এ সময় ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তার বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে ইয়ামিনের বুকের বাঁ পাশে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে তাকে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রেখে গাড়িটি এপাশ-ওপাশ চালিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে প্রায় মৃত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্যকে বের করে ইয়ামিনের পায়ে আবারও গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে পায়ে গুলি না করে তাকে রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন। তখনও ইয়ামিনের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার