
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্নাতক পর্যায়ে আসন রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ। বিপরীতে, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। ফলে উচ্চশিক্ষার অনেক প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেলের মতো জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রতিযোগিতা আগের মতোই তীব্র থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ আসনসংক্রান্ত তথ্য এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। হিসাব অনুযায়ী, সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও প্রায় ৮ লাখ ৪৫ হাজার আসন খালি থেকে যেতে পারে।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসগুলোতে আসন মাত্র ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। বাকি আসন রয়েছে অধিভুক্ত কলেজ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।
সামগ্রিক উচ্চশিক্ষায় আসনের তুলনায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ইউজিসির হিসাবে, ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে মোট আসন ৬৩ হাজার ৬৫৬টি।
সে হিসাবে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাত্র ৯ দশমিক ৮ শতাংশের এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে জনপ্রিয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রতিযোগিতা কমার সম্ভাবনা নেই।
উচ্চশিক্ষার মোট আসনের বড় অংশ রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এসব প্রতিষ্ঠানে আসন ১০ লাখ ১৮ হাজার ৬৩২টি। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটগুলোতেই রয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি আসন।
এ ছাড়া ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ১৮ হাজার ৮৮৬টি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ হাজার ৪৩৮টি, বিইউপির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ৯০টি এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ১ হাজার ৪৪০টি আসন রয়েছে।
বিশেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কম চাহিদাসম্পন্ন কলেজগুলোতে আসন পূরণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার। পরিচিত ও চাহিদাসম্পন্ন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকলেও নতুন এবং মধ্যম পর্যায়ের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়কে ভর্তি কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
বিশেষ করে টিউশন ফির ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়, বিভাগ পরিচালনা এবং শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামগ্রিক উচ্চশিক্ষায় আসন উদ্বৃত্ত থাকলেও মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষায় ভর্তি প্রতিযোগিতা কমার সম্ভাবনা নেই।
দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি এবং ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ১টি। সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫টি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ১ হাজার ৪৯০টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া আর্মড ফোর্সেস ও আর্মি মেডিকেল কলেজে আসন ৩৭৫টি।
এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পৃথক ভর্তি পরীক্ষা থাকায় মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার সঙ্গে সরাসরি আসনের তুলনা করা সম্ভব নয়।
এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সমকালকে বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের প্রয়োজন ও বিবেচনা অনুযায়ী ভর্তি যোগ্যতার মানদণ্ড শিথিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। গত মঙ্গলবার শিক্ষা বোর্ডগুলোর সভায় এ বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুধবার এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার