
টানা বর্ষণ, জলাবদ্ধতা এবং বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। অবশিষ্ট পরীক্ষা পেছানোসহ সাত দফা দাবিতে দিনভর কর্মসূচির একপর্যায়ে তারা শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা আদায় করেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে সকাল ১১টা থেকে নগরের মুরাদপুরে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘এইচএসসি-২০২৬’ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুরে একপর্যায়ে তারা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক খুলে নিয়ে যান। এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। ফটক খুলে নেওয়ার ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে সাত দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দেশের সার্বিক বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, প্রশ্নপত্রের মান ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা, ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রের ন্যায্য মূল্যায়ন, প্রশ্ন প্রণয়নে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র পুনঃইস্যুর সুযোগ এবং অবশিষ্ট পরীক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত নতুন রুটিন প্রকাশ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম শাকিল বলেন, বিকেল ৩টার মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা আদায় করা হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিক্ষোভ চলাকালে কিছু সময়ের জন্য শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার বহু পরীক্ষার্থী দুর্যোগের কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এরপরও পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি আমলে না নেওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার