
যুক্তরাজ্যে একই সময়ে পাঁচটি পূর্ণকালীন সরকারি চাকরি করার অভিযোগে প্রতারণার মামলায় বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী কাশিম চৌধুরী। অসুস্থতার ভান করে কাজে অনুপস্থিত থাকা এবং ভিডিও কলে অসুস্থ দেখানোর জন্য মুখে সাদা মেকআপ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে আদালতে আনা জালিয়াতির নয়টি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।
সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করেন কাশিম। এর মধ্যে ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি একই সময়ে পাঁচটি পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চুক্তিবদ্ধ কর্মঘণ্টা সপ্তাহের মোট সময়ের চেয়েও বেশি
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি চাকরির জন্য কাশিমের চুক্তিবদ্ধ সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ছিল ১৮৩ ঘণ্টা। অথচ এক সপ্তাহে মোট সময় ১৬৮ ঘণ্টা। অভিযোগ, একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির তথ্য গোপন রেখে তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে বেতন নিতেন।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে কাজ শুরু করেন কাশিম। পরের বছর এপ্রিলে যোগ দেন পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগে। পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগ, হোম অফিস, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। নতুন চাকরি নেওয়ার সময় আগের চাকরির তথ্য গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অসুস্থতার ভান করতে মেকআপ ব্যবহারের অভিযোগ
প্রসিকিউশনের দাবি, একাধিক চাকরির চাপ সামলাতে কাশিম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিতেন। কোভিড মহামারির সময় দূর থেকে কাজ করার সুযোগও তিনি অপব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আদালতে আরও জানানো হয়, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার কথা উল্লেখ করে এবং অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার কারণ দেখিয়ে তিনি বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি নিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের মে মাসে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির ব্যবস্থাপক অ্যালিশা অ্যাডামস তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে আলোচনা করতে একটি ভিডিও কলের আয়োজন করেন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় অ্যালিশা জানান, ওই কলে কাশিমকে অসুস্থ দেখানোর জন্য তাঁর মুখে সাদা মেকআপ ছিল। কিন্তু কথা বলার সময় কপালের মেকআপ সরে গিয়ে ত্বকের আসল রং দেখা যায়। মুখ ও গলার রঙের পার্থক্যও নজরে আসে।
এ ছাড়া ভুলবশত অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ায় তাঁর একাধিক চাকরির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
প্রসিকিউটর লুসি অর্গান আদালতে বলেন, ব্যবস্থাপকের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য কাশিমের এমন মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা তাঁর আচরণের বিষয়টি তুলে ধরে।
কাশিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতির নয়টি অভিযোগের বিচার চলছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন তিনি। মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার