
ইউনূস আমলে কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর অপরাধ জগতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে আগে কারাবন্দি থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির দুর্বলতা ও তথ্য হালনাগাদের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে তারা আবারও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিশোধ, আধিপত্য বিস্তার এবং পুরোনো দ্বন্দ্ব মেটানোর প্রবণতা থেকে অনেকেই অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করেই তাকে হত্যা করা হয়। হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে এবং প্রয়োজনে বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, টিটন দীর্ঘদিন অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। দুই দশকের বেশি সময় কারাভোগের পর ২০২৪ সালে তিনি মুক্তি পান এবং এরপর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুনরায় নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন। ঘটনার দিন রাতে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতীতে সরকার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় থাকা অনেকেই বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার বা আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে কেউ আটক হলেও অনেকেই দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন বা নিরাপত্তার কারণে সেখানেই অবস্থান করতেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে বা দণ্ড শেষ করে বের হয়ে আসেন এবং আবারও অপরাধচক্রে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোনো অপরাধীদের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, তবে নতুন করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদের মতে, অনেক শীর্ষ অপরাধী বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছে, আবার কেউ কেউ আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা এসব অপরাধীরা বাইরে এসে দ্রুত পুরোনো নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধার করতে পারে, যা অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তারা মনে করেন, কার্যকর নজরদারি ও সমন্বিত পদক্ষেপ না থাকলে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার