
দৈনিক বিশ্বসংবাদ ডেস্ক | ২৮ এপ্রিল ২০২৬,
শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী—গারো পাহাড়ঘেঁষা এই তিন উপজেলায় এখন চারদিকে সবুজ ধানের সমারোহ। বোরো ধানের এই মৌসুমে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে যে ফলন হয়েছে, তা শুধু কৃষকের পরিশ্রম নয়—এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
তবে এই সাফল্যের মাঝেই প্রতিবছরের মতো এবারও দেখা দিয়েছে বন্য হাতির উপদ্রব, যা কৃষকের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গারো পাহাড় এলাকায় শতাধিক বন্য হাতি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ধান পাকতে শুরু করলেই এসব হাতি নেমে আসে মাঠে, ফলে কৃষকদের কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত।
মশাল জ্বালানো, পটকা ফাটানো কিংবা ঝুঁকিপূর্ণভাবে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা—এভাবেই চলছে কৃষকের জীবনযুদ্ধ। এতে একদিকে যেমন মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে, অন্যদিকে বন্য প্রাণীরও ক্ষতি হয়।
বন বিভাগ ও কৃষি দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখলেও কৃষকদের অভিযোগ, এই সহায়তা প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় খুবই কম।
একজন কৃষকের মতে, “ফসলের পেছনের শ্রম, সময় আর মানসিক চাপের কোনো মূল্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে পূরণ করা যায় না।”
এছাড়া দীর্ঘসূত্রতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো সহায়তা পান না, ফলে তারা ক্রমশ কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বন বিভাগ কিছু এলাকায় সোলার ফেন্সিং ও বায়ো-ফেন্সিং চালু করলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতির খাদ্য সংকট ও বনাঞ্চল সংকোচনই মূল সমস্যা।
বন উজাড় এবং হাতির চলাচলের করিডর দখল হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।
সম্পাদকীয় মতামতে বলা হয়েছে, শুধু মৌসুমভিত্তিক টিম গঠন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন—
গারো পাহাড়ের কৃষি উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বন্য হাতির সঙ্গে চলমান সংঘাত সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলছে। কৃষক, পরিবেশ ও বন্য প্রাণী—সব পক্ষকে বিবেচনায় নিয়ে এখনই একটি স্থায়ী ও সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার