স্মার্টফোনে রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখা এখন শুধু তরুণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রবীণদের মাঝেও এই অভ্যাস দ্রুত বাড়ছে। অবসর সময় কাটাতে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের রিলস দেখেন কিংবা অনলাইন গেমে সময় ব্যয় করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত রিলস স্ক্রলিং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্মার্টফোন ব্যবহার সব সময় ক্ষতিকর নয়। প্রিয়জনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখা বা বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে বিভিন্ন গেম খেলা প্রবীণদের মানসিকভাবে সক্রিয় রাখতে এবং একাকীত্ব কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ফোন ব্যবহারই দৈনন্দিন জীবনের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখার অভ্যাস স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে নিয়মিত হাঁটাচলা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলো ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত রিলস স্ক্রলিংয়ের ফলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়, যা স্থূলতা, জয়েন্টের ব্যথা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া স্ক্রিনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করায় ঘুমের সমস্যা ও অনিদ্রা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া খুব অল্প সময়ের ভিডিও নিয়মিত দেখার কারণে দীর্ঘ সময় কোনো বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত স্ক্রলিং সাময়িক আনন্দ দিলেও দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অবসাদ, একাকীত্ব এবং খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, স্মার্টফোন ব্যবহার যেন বিনোদন ও যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহারে ভারসাম্য বজায় রাখাই সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার