
সৌরবিদ্যুতের আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন নতুন পণ্য নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো। আবাসিক ভবনের ছাদে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার বড় প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ, ইনভার্টার ও বহনযোগ্য বিদ্যুৎ সংরক্ষণব্যবস্থা—সব ধরনের প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে এ আয়োজনে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের একটি সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া দুই দিনের এ প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। নতুন সৌরপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে এবং বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করতে অনেকে প্রদর্শনীতে আসেন।
দেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ও পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে। তারা প্রদর্শন করছে আধুনিক সোলার প্যানেল, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইনভার্টার, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস), পোর্টেবল বিদ্যুৎ সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে।
ছাদে সোলার প্যানেল, মাসে সাশ্রয় ২৭ হাজার টাকা
ওমেরা সোলারের স্টলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসুদুর রহিম জানান, সৌরবিদ্যুতের প্রসারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়ার সুযোগ এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাবে।
তিনি বলেন, রাজধানীতে পাঁচ কাঠা জমির ওপর নির্মিত পাঁচ থেকে ছয়তলা আবাসিক ভবনের ছাদে সাধারণত ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার বর্গফুট জায়গা পাওয়া যায়। সেখানে ১৫ থেকে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন সম্ভব। এতে আনুমানিক ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।
এ ধরনের ব্যবস্থা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ ইউনিট এবং মাসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে। বর্তমান বিদ্যুৎ ট্যারিফ অনুযায়ী, এতে মাসে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
মাসুদুর রহিম আরও জানান, সোলার প্যানেলের আয়ুষ্কাল সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর। তবে ইনভার্টারসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ পাঁচ থেকে ১০ বছর পর পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। ওমেরা দেশে সোলার প্যানেল উৎপাদনের পাশাপাশি আবাসিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ১২০ মেগাওয়াটের বেশি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পন্ন করেছে।
শিল্পে বাড়ছে ব্যাটারি স্টোরেজের ব্যবহার
চীনের বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়া ডিজিটাল পাওয়ার বিজনেস বিভাগের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মো. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো নিয়ে কাজ করছে হুয়াওয়ে। বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের ইনভার্টার ও ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি জানান, বাংলাদেশে প্যারামাউন্টের সঙ্গে ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ময়মনসিংহের ৫২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হুয়াওয়ের ইনভার্টার ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তি দেশের শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লেও আবাসিক পর্যায়ে এখনো অনেক সুযোগ রয়েছে। সরকারি উদ্যোগের ফলে বাসাবাড়িতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।
বাসাবাড়ির জন্য পোর্টেবল বিদ্যুৎ সংরক্ষণব্যবস্থা
গ্রিনারি এনার্জি সলিউশন লিমিটেডের ডিভিশনাল সেলস ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান সোলার প্যানেল বিক্রির পাশাপাশি ছোট-বড় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। লেসো ও ট্রংভিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যানেল এবং আইটেলের পোর্টেবল এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম নিয়ে কাজ করছেন তাঁরা।
বাসাবাড়ির ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তিন ধরনের ছোট আকারের পোর্টেবল স্টোরেজ পণ্য বাজারে এনেছে। পাশাপাশি এক মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে। এক্সপোতে এসব পণ্য নিয়ে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
সোলার স্থাপনে অনুমোদিত লোডের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) রিনিউয়েবল এনার্জি দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়েজ করিম বলেন, নেট মিটারিংয়ের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের আগে গ্রাহকের অনুমোদিত বিদ্যুৎ লোড বিবেচনা করা জরুরি।
ছাদে বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও অনুমোদিত লোডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনে এ ধরনের ব্যবস্থা বসানোর আগে গ্রাহককে বিদ্যুতের লোড অনুমোদন নিতে হবে বলেও জানান তিনি।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার