শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টাইফুন দুজুয়ান’ জাপানে আঘাত হানার পর ১৬ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার জাপানের রাজধানী টোকিওর কাছের কাৎসুরা এলাকা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটারে পৌঁছায়। এতে হাজার হাজার ঘরবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে কিছুটা দুর্বল হয়ে টাইফুনটি উপকূল থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে অ্যালিউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রের দিকে সরে যেতে শুরু করেছে।
জেএমএর কর্মকর্তা তাকুয়া হোসোমি জানান, টাইফুনটি উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতা জারি করা এলাকাগুলোতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড়ের কারণে সোমবার জাপান এয়ারলাইনস ১৩৫টি এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল করে। এতে বিমানবন্দরগুলোতে অসংখ্য যাত্রী আটকা পড়েন। একই সঙ্গে টোকিও ও ওসাকার মধ্যে চলাচলকারী বুলেট ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি রেল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।
জেএমএ জানিয়েছিল, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট বৃষ্টির পরিমাণ সেপ্টেম্বরের গড় বৃষ্টিপাতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ঐতিহাসিক কামাকুরা স্টেশন এবং টোকিওর পূর্বাঞ্চলীয় ইচিকাওয়ার বেশ কিছু সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। কামাকুরার মেয়র তাকাসি মাতসুও গাড়ি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানান।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে টোকিও গেম শো, একটি বড় আউটডোর মিউজিক ফেস্টিভ্যাল এবং চিবাতে নির্ধারিত একটি বেসবল ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে।
গ্রীষ্মের শেষ ও শরতের শুরুর দিকে জাপানে প্রায়ই টাইফুন আঘাত হানে। ‘দুজুয়ান’ চলতি বছরের ২৫তম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হেনেছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















