
জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির চেষ্টা এবং ভুয়া তথ্য ও স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগে কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ের দুই মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বেতন-ভাতা বন্ধসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদারের সই করা পৃথক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
অভিযুক্তদের একজন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার কুটিরগ্রাম এম.এইচ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. মাহফুজুর রহমান খন্দকার।
অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, এর আগে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে এমপিওভুক্ত করার জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি। বিষয়টি অধিদপ্তরের নজরে এলে ওই আবেদন বাতিলের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এরপরও চলতি আগস্ট মাসে মীম আক্তার নামে আরেকজনকে এমপিওভুক্ত করার জন্য একই ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে মীম আক্তারের এমপিওভুক্তির আবেদন করা হয়। বিষয়টি ধরা পড়ার পর আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে।
বারবার জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় সুপার মাহফুজুর রহমান খন্দকারের বেতন-ভাতা কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক লিখিত জবাব চেয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
নোটিশ পাওয়ার পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব অধিদপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. নাজিমুল আলমের বিরুদ্ধেও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে মাদ্রাসাটির তিন শিক্ষকের উচ্চতর স্কেল বা বিএড স্কেলের জন্য মেমিস সিস্টেমে আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক হিসেবে মাদ্রাসাটির সহকারী মৌলভী মো. সাইদুর ইসলাম, সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) মো. মুসা এবং সহকারী শিক্ষক মো. মমতাজ পারবিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাক্ষর জাল করে আবেদন করার অভিযোগের বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে অধিদপ্তর।
ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. নাজিমুল আলমকে নোটিশ পাওয়ার পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের জবাব পর্যালোচনার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার