
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের অদক্ষতা ও পরিকল্পনার অভাবে দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতকে বেসরকারি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলামের দাবি, বর্তমানে দেশে ভয়াবহ মাত্রায় লোডশেডিং চলছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট রাত ১টায় দেশে লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগে ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট এবং ৩ আগস্ট ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
নাহিদ বলেন, বিএনপি সরকারের সঙ্গে আবারও ‘লোডশেডিং’ শব্দটি সমার্থক হয়ে উঠছে। তাঁর মতে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) দুর্বল করে পরবর্তীতে বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে জ্বালানি ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস বড় পরিমাণে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতের অনুমতি চেয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছে।
এর পর গত ৬ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিপিসিকে ‘বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া তৈরির নির্দেশ দেয়। নাহিদের দাবি, এ কাজের জন্য বিপিসিকে মাত্র চার দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ভিন্নমত দেওয়ার কারণে বিপিসির চেয়ারম্যানকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর প্রতিদিন প্রায় ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে ৫ আগস্ট আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ চালু হয়। অর্থাৎ সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগে।
নাহিদ প্রশ্ন করেন, টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং এ ঘটনায় স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না। তাঁর মতে, দেশের গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ দুটি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একটি টার্মিনাল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা উদ্বেগের বিষয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি খাত শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, এটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তাই এ খাতে তড়িঘড়ি করে কোনো বেসরকারিকরণ বা নীতিগত পরিবর্তন করা উচিত নয়।
তিনি সরকারের কাছে জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
নাহিদের ভাষায়, সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণের প্রতি, কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতি নয়। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে।
তবে নাহিদ ইসলামের এসব বক্তব্য ও অভিযোগ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে। লোডশেডিংয়ের পরিমাণ, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা এবং জ্বালানি খাত বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার