বিএফইউজের মহাসচিব ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। তার দাবি, ডেল্টাগ্রামের একটি জনমত জরিপে সরকারের প্রতি ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন ও সন্তুষ্টির বিষয়টি এর প্রমাণ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের সভাপতি নাছিম আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘ব্যক্তিবৃত্ত থেকে ক্ষমতা এখন জনগণের আঙিনায়’ এসেছে। তিনি দাবি করেন, দেশের উন্নয়নে বিএনপির বড় অবদান রয়েছে এবং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সময়ের বিভিন্ন উদ্যোগ এর ভিত্তি তৈরি করেছে।
সরকারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ডলার ও রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তার মতে, বিনিময় হার আরও স্থিতিশীল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়তে পারে।
তিনি দাবি করেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কাদের গনির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থাকা খেলাপি ঋণের অনুপাত ২০২৬ সালের জুনে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে। ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কারণে এই পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিদেশি ঋণ পরিশোধের বিষয়েও সরকারের সাফল্যের দাবি করেন কাদের গনি। তার ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম পাঁচ মাসে বিএনপি সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।
সংসদীয় কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, দীর্ঘ সময় পর সংসদে প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন, আলোচনা ও জবাবদিহির চর্চা দৃশ্যমান হয়েছে। প্রথম অধিবেশনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির উদ্যোগকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ক্ষমতা ব্যবহারের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন কাদের গনি। প্রধানমন্ত্রীর সীমিত গাড়িবহর, চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ না রাখা, সরকারি গাড়ি কেনায় নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ সীমিত করা এবং সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগকে তিনি এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী নিজের মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কাদের গনির মতে, এসব উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহুল্য কমানোর বার্তা দেয়।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, পরীক্ষামূলকভাবে হাজার হাজার পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষকদের বিষয়ে কাদের গনি বলেন, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কৃষিঋণ ও সংশ্লিষ্ট সুদ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা, খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রমজান ও ঈদে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে ২ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন কাদের গনি।
শিক্ষা খাতে পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তি, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ফ্রি ওয়াই-ফাই, শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগ এবং ক্রীড়া ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে ‘হেলথ কার্ড’, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন কাদের গনি। পাশাপাশি জলবায়ু বাজেট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নদী-খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 




















