ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

দেশে ৩ হাজার ৯৩৮ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬২২

 

 

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ২০২৫ সালে সারা দেশে ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩১৬টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬২২টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে ৬ হাজার ৫৯৫টি স্থাপনাকে সন্তোষজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শনে ভবনের জরুরি বহির্গমন পথ, ব্যবহারযোগ্য সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, পানির রিজার্ভার, স্প্রিংকলার, ফায়ার ডোর, প্রশিক্ষিত জনবল ও ডেডিকেটেড ফায়ার অফিসারসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভবন পরিদর্শনের ক্ষেত্রে মূলত অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। সংস্থাটির নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং উইং না থাকায় ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া তাদের আওতাভুক্ত নয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণে নির্ধারিত চেকলিস্টের ভিত্তিতে একটি স্থাপনাকে সন্তোষজনক, ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পরিদর্শনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যবহারযোগ্য ও বাধামুক্ত সিঁড়ি, জরুরি বহির্গমনের ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও সেগুলো পরিচালনায় প্রশিক্ষিত জনবল আছে কি না, তা দেখা হয়। বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত হোস পাইপ ও ফায়ার পাম্প না থাকা কিংবা দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরঞ্জাম অকেজো হয়ে পড়াকেও ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  আধুনিক যান যেখানে থামে, যমুনার চরে ছুটে চলে ঘোড়ার গাড়ি

এ ছাড়া ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়গুলোও যাচাই করা হয়। রাজউক অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হলে সেটিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি লাইটনিং অ্যারেস্টার, ছাদের পানির ট্যাংক, ভূগর্ভস্থ রিজার্ভার, ফায়ার পাম্প, ডিজেল পাম্প ও জকি পাম্পের উপস্থিতি এবং কার্যকারিতাও যাচাই করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬৫২টি ভবনের মধ্যে ৪৪২টি সন্তোষজনক, ১৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৪৭৩টি আবাসিক ভবনের মধ্যে ২৬১টি সন্তোষজনক, ১৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।

পোশাকশিল্পের ১ হাজার ৫৩৩টি কারখানার মধ্যে ৮৫৩টি সন্তোষজনক, ৫৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। পোশাকশিল্পের বাইরে ৭২০টি কারখানার মধ্যে ৪৩৪টি সন্তোষজনক, ২৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শার্শায় দুই মোটরসাইকেল থেকে ২৬ স্বর্ণের বার উদ্ধার, আটক ১

হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ১ হাজার ৫৩টির মধ্যে ৫৪৫টি সন্তোষজনক, ৪৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৭৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৪৮০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৩২৮টি সন্তোষজনক, ১৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৯টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। রেস্টুরেন্টের ১ হাজার ৭১টির মধ্যে ৫৫৪টি সন্তোষজনক, ৩৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৪৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ছাড়া ১ হাজার ১৭১টি শপিংমল ও মার্কেটের মধ্যে ৭২৩টি সন্তোষজনক, ৩৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১০৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৭৮৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩৫টি সন্তোষজনক, ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৯১টি কেমিক্যাল গোডাউনের মধ্যে ১১টি সন্তোষজনক, ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও দুর্যোগ-সহনশীলতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর অগ্নিকাণ্ড, গ্যাস বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও জরুরি বহির্গমন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ভবনের অগ্নিনিরাপত্তার পাশাপাশি কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অনেক ভবন অনুমোদিত নকশা ও নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হয় না। আবার নির্মাণের পর ভবনের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। এসব ভবনে ফায়ার হাইড্রেন্ট, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, আগুন শনাক্তকারী সেন্সর, ফায়ার ডোর ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩৭৯

তিনি বলেন, অনেক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম থাকলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। ফলে আগুন লাগার সময় সেগুলো অকার্যকর হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আগুন লাগলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই অবকাঠামোগত নিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনবিসি অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ এবং ফায়ার সেফটি প্ল্যান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে অগ্নিঝুঁকি কমানো সম্ভব। জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাহিদ হাসানকে ‘বাবা’ ডেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা সুনেরাহর

দেশে ৩ হাজার ৯৩৮ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬২২

আপডেটের সময়: ০৬:০৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

 

 

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ২০২৫ সালে সারা দেশে ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩১৬টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬২২টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে ৬ হাজার ৫৯৫টি স্থাপনাকে সন্তোষজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শনে ভবনের জরুরি বহির্গমন পথ, ব্যবহারযোগ্য সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, পানির রিজার্ভার, স্প্রিংকলার, ফায়ার ডোর, প্রশিক্ষিত জনবল ও ডেডিকেটেড ফায়ার অফিসারসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভবন পরিদর্শনের ক্ষেত্রে মূলত অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। সংস্থাটির নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং উইং না থাকায় ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া তাদের আওতাভুক্ত নয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণে নির্ধারিত চেকলিস্টের ভিত্তিতে একটি স্থাপনাকে সন্তোষজনক, ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পরিদর্শনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যবহারযোগ্য ও বাধামুক্ত সিঁড়ি, জরুরি বহির্গমনের ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও সেগুলো পরিচালনায় প্রশিক্ষিত জনবল আছে কি না, তা দেখা হয়। বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত হোস পাইপ ও ফায়ার পাম্প না থাকা কিংবা দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরঞ্জাম অকেজো হয়ে পড়াকেও ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  অধ্যক্ষ নিয়োগের টানাপোড়েনের মধ্যে কলেজে পেট্রল ঢেলে আগুন

এ ছাড়া ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়গুলোও যাচাই করা হয়। রাজউক অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হলে সেটিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি লাইটনিং অ্যারেস্টার, ছাদের পানির ট্যাংক, ভূগর্ভস্থ রিজার্ভার, ফায়ার পাম্প, ডিজেল পাম্প ও জকি পাম্পের উপস্থিতি এবং কার্যকারিতাও যাচাই করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬৫২টি ভবনের মধ্যে ৪৪২টি সন্তোষজনক, ১৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৪৭৩টি আবাসিক ভবনের মধ্যে ২৬১টি সন্তোষজনক, ১৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।

পোশাকশিল্পের ১ হাজার ৫৩৩টি কারখানার মধ্যে ৮৫৩টি সন্তোষজনক, ৫৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। পোশাকশিল্পের বাইরে ৭২০টি কারখানার মধ্যে ৪৩৪টি সন্তোষজনক, ২৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানীর বাজারে শিমের কেজি ২০০ টাকা, পেঁপে মিলছে ৩০ টাকায়

হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ১ হাজার ৫৩টির মধ্যে ৫৪৫টি সন্তোষজনক, ৪৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৭৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৪৮০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৩২৮টি সন্তোষজনক, ১৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৯টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। রেস্টুরেন্টের ১ হাজার ৭১টির মধ্যে ৫৫৪টি সন্তোষজনক, ৩৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৪৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ছাড়া ১ হাজার ১৭১টি শপিংমল ও মার্কেটের মধ্যে ৭২৩টি সন্তোষজনক, ৩৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১০৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৭৮৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩৫টি সন্তোষজনক, ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৯১টি কেমিক্যাল গোডাউনের মধ্যে ১১টি সন্তোষজনক, ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও দুর্যোগ-সহনশীলতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর অগ্নিকাণ্ড, গ্যাস বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও জরুরি বহির্গমন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ভবনের অগ্নিনিরাপত্তার পাশাপাশি কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অনেক ভবন অনুমোদিত নকশা ও নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হয় না। আবার নির্মাণের পর ভবনের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। এসব ভবনে ফায়ার হাইড্রেন্ট, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, আগুন শনাক্তকারী সেন্সর, ফায়ার ডোর ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩৭৯

তিনি বলেন, অনেক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম থাকলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। ফলে আগুন লাগার সময় সেগুলো অকার্যকর হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আগুন লাগলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই অবকাঠামোগত নিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনবিসি অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ এবং ফায়ার সেফটি প্ল্যান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে অগ্নিঝুঁকি কমানো সম্ভব। জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।