
হেঁচকি ওঠা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। দ্রুত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা, কোমল পানীয় পান করা কিংবা হঠাৎ বেশি হাসলেও হেঁচকি উঠতে পারে। সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই এটি নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে হেঁচকি চলতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
হেঁচকি মূলত ডায়াফ্রামের অনৈচ্ছিক সংকোচনের কারণে হয়। ডায়াফ্রাম হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশি। এটি হঠাৎ সংকুচিত হলে দ্রুত বাতাস ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং একই সময়ে গ্লটিস নামের অংশটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলেই পরিচিত ‘হিক’ শব্দটি তৈরি হয়।
হেঁচকির নির্দিষ্ট কারণ সবসময় জানা যায় না। তবে দ্রুত বা অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, কোমল পানীয় পান, অতিরিক্ত বাতাস গিলে ফেলা, অ্যালকোহল গ্রহণ, হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন, বেশি হাসি, উত্তেজনা ও মানসিক চাপ হেঁচকি শুরু করতে পারে।
বিশেষ করে অতিরিক্ত খাবার খেলে পাকস্থলী প্রসারিত হয়। এতে ডায়াফ্রাম ও সংশ্লিষ্ট স্নায়ুতে উদ্দীপনা তৈরি হয়ে হেঁচকি উঠতে পারে।
উত্তেজনা, নার্ভাসনেস, হঠাৎ হাসি কিংবা মানসিক চাপ শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলেও হেঁচকির প্রতিবর্ত ক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে।
সাধারণ হেঁচকি কয়েক মিনিটের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হেঁচকি চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি কখনো কখনো মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র, বুক বা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, বিপাকীয় জটিলতা কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
হেঁচকির সঙ্গে যদি বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা তীব্র পেটব্যথা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
তাই মাঝে মধ্যে হেঁচকি ওঠা নিয়ে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে অস্বাভাবিকভাবে ঘন ঘন বা দীর্ঘ সময় ধরে হেঁচকি চললে কারণ খুঁজে বের করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার