
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর তৈরি হওয়া একটি হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে বলে নেপালকে সতর্ক করেছে চীন।
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হ্রদের পানির রঙ ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে। এটিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হ্রদে পানির পরিমাণ খুব বেশি না হওয়ায় বাঁধ ভেঙে গেলেও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছে চীন।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক বার্তায় চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে হ্রদটির সৃষ্টি হয়।
চীনের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, হ্রদের পানির রঙ ক্রমেই গাঢ় হয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ হতে পারে, প্রাকৃতিক বাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।
বাঁধ ভেঙে গেলে নিম্নাঞ্চলের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ধসে পড়া মাটি, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে হ্রদটি সৃষ্টি হয়েছে। এটি চীনের চোচেন নদী ও নেপালের পুরেপু নদীর মিলনস্থলের কাছে অবস্থিত।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির পানির স্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে।
হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা জানতে চীন বন্যার পানির প্রবাহ নিয়ে মডেলিং করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বাঁধ ভেঙে গেলে নদীতে পানির সর্বোচ্চ প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
এর আগে চীন জানিয়েছিল, আগামী তিন দিনে হ্রদটিতে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারি করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নেপালেই ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনের তিব্বতে মারা গেছেন পাঁচজন।
দুই দেশ মিলিয়ে এখনো ২ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার