রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা একাধিক আলামতে পুরুষের ডিএনএর উপস্থিতি পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে মামলার দুই প্রধান আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে দুই আসামিকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আদালতের নির্দেশে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করবেন। পরীক্ষা শেষে তাদের আবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা ৩৫টি আলামতের মধ্যে খেজুর, শসা, ইয়াবা সেবনের ফয়েল ও ফল কাটার ছুরিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামতে পুরুষের উপস্থিতির নমুনা শনাক্ত হয়েছে। এসব নমুনার সঙ্গে দুই আসামির ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া নমুনাগুলো সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের সঙ্গে মেলে কি না, তা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে এই দুই আসামির বাইরে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তদন্তে সে বিষয়েও তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।
সিআইডি সূত্র জানায়, নিহত রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছোট ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর ডিএনএ নমুনাও আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামতের সঙ্গে এসব নমুনার পাশাপাশি আসামিদের ডিএনএ প্রোফাইলও বিশ্লেষণ করা হবে।
গত ২১ আগস্ট মধ্যরাতের পর রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে খুন হন গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছোট ছেলে আয়ুশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে দুই আসামি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে দায় স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ। ওই রাতে ইয়াবা সেবনের জন্য যে বন্ধুর বাসায় তারা গিয়েছিলেন, সেই সীমান্ত এবং হত্যাকাণ্ডের পর আশ্রয় দেওয়া শ্মশানের পাহারাদার বিদ্যুৎ দাসও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















