
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে সুদের হার বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে অবস্থান পরিবর্তন করায় এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নিউইয়র্ক সময় সকাল ১১টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,২৯৮.৭৫ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে দরপতন ১ শতাংশেরও বেশি ছিল। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচার্স ০.৯ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪,৩২৩.৯০ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন মূল্যস্ফীতি (CPI) ও উৎপাদক মূল্যসূচক (PPI) প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে, যার ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। আরজেও ফিউচার্সের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট বব হ্যাবারকর্ন বলেন, অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে, ফলে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণ ও রূপার বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্যের পর এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক সূচকের দিকে। বুধবার CPI এবং বৃহস্পতিবার PPI প্রকাশের পর বাজারে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
জার্মানির কমার্সব্যাংক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যদি মে মাসের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়, তবে স্বর্ণের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভার, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত সুদের হার বেশি হলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়—এটাই বর্তমান দরপতনের প্রধান কারণ।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার