
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন ও শ্রমিক খরচের মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এক মণ ধান বিক্রি করে এখন একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরিও পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তারা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ (প্রায় ২৮ কেজি) নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে ৪০ কেজির মণ হিসেবে দাম থাকছে ১১০০ থেকে ১১২০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ধান কাটার শ্রমিকদের মজুরি দিন দিন বেড়ে গেছে।
ধান কাটার ক্ষেত্রে শ্রমিকরা আধা দিনের কাজের জন্য প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং পূর্ণ দিনের জন্য ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষকের আয়ের চেয়ে শ্রমিক ব্যয় বেশি হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকট, বহিরাগত শ্রমিক না আসা এবং ধান মাটিতে নুয়ে পড়ার কারণে শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। এতে খরচ আরও বেড়ে গেছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।
কৃষকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থায় ধান বিক্রি করা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হলেও সেখানে নানা জটিলতা ও অনানুষ্ঠানিক খরচ থাকায় অনেকেই হাট-বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
একাধিক কৃষক আরও জানান, শুধু ধান নয়, আগের আলু মৌসুমেও তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে ধারাবাহিক লোকসানে অনেকেই আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শিগগিরই ধান কাটা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের দাবি, ন্যায্যমূল্যে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করা না হলে প্রান্তিক কৃষকরা আরও বড় সংকটে পড়বেন।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার