
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত H-1B ভিসায় নতুন করে বড় অঙ্কের ফি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত বিধিমালায় নতুন H-1B ভিসার জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার পর্যন্ত ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
সোমবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) প্রস্তাবিত বিধিমালা ফেডারেল রেজিস্টারের অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর শুরু হবে ৩০ দিনের জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া। চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালে এক জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন H-1B ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সেই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। গত জুনে এক মার্কিন বিচারক ফি আরোপকে বেআইনি ঘোষণা করে তা আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আপিল আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আগের আদেশের মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বরে এক বছর পূর্ণ হওয়ার কথা। এর আগেই ওই ব্যবস্থাকে স্থায়ী বিধিমালায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
H-1B ভিসার মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগের সুযোগ পায়। প্রতিবছর সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ৬৫ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর পর্যন্ত হতে পারে।
আগে H-1B ভিসার আবেদনসংক্রান্ত খরচ সাধারণত কয়েক হাজার ডলারের মধ্যে থাকলেও নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ব্যয়ের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠান মোট ৮৫টি H-1B আবেদনের জন্য ১ লাখ ডলার করে ফি পরিশোধ করেছিল।
ট্রাম্প ও H-1B কর্মসূচির সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠান কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, বিশেষায়িত অনেক পদে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় না। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মেধাবী কর্মীদের আকর্ষণ করতে H-1B কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।
এই দুই অবস্থানের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ ও নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি গ্রহণ করছে।
নতুন ফি নিয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সংগঠন, কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, শ্রমিক ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তাদের জোট আইনি লড়াই করছে।
মামলাকারীদের যুক্তি, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী বিভাগ এভাবে অতিরিক্ত ফি বা কর আরোপ করতে পারে না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি প্রচলিত অর্থে কোনো কর নয়; বরং বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার আওতায় নেওয়া ব্যবস্থা।
ফলে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলেও তা আদালতে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে H-1B কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নিয়োগকর্তারা প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার H-1B নিবন্ধন করেছিলেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ২৫ শতাংশেরও বেশি কম। ২০২৩ সালে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার।
এর পাশাপাশি H-1B আবেদনকারীদের জন্য কঠোর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
চলতি আগস্টের শুরুতে H-1B কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা বিদেশে থাকা কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে বদলির কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি যুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।
নতুন ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। ফলে প্রযুক্তি, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ রাইসা কবির, বার্তা সম্পাদক : সেলিম রানা, সাহিত্য সম্পাদকঃ সিদরাতুল ইসলাম সায়মা। Address: 169, Gha-1, Sahadat Hossain Road, West Dholaipar, Dhaka-1204. Gmail: dainikbishawsongbad@gmail.com Mobile:
ই পেপার