
বাজারে সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম দামের কারণে ফার্মের মুরগি এখন অধিকাংশ পরিবারের খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এই মুরগির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আলোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলট্রি শিল্পে ব্যবহৃত খাদ্যের মান, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এবং খাদ্য উৎপাদনে অনিয়ম থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
ট্যানারি বর্জ্য ও ক্রোমিয়াম নিয়ে উদ্বেগ
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন গবেষণায় অতীতে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু খামারে চামড়া শিল্পের বর্জ্য (ট্যানারি ওয়েস্ট) থেকে তৈরি প্রোটিন ফিড ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের বর্জ্যে ক্ষতিকর মাত্রার ক্রোমিয়াম থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ক্রোমিয়াম মানবদেহে প্রবেশ করলে কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভারী ধাতু হওয়ায় রান্না করলেও এটি ধ্বংস হয় না।
গবেষণায় যা উঠে এসেছে
বিভিন্ন গবেষণায় ফার্মের মুরগির মাংস, কলিজা, হাড় ও অন্যান্য অঙ্গে ক্রোমিয়ামের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসবের মাত্রা খামারভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই সব ফার্মের মুরগি একই মাত্রায় দূষিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকি
পোলট্রি খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী (Antibiotic Resistance) জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
কী করবেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—
- বিশ্বস্ত ও পরিচিত বিক্রেতার কাছ থেকে মুরগি কিনুন।
- ভালোভাবে রান্না করে খাবার গ্রহণ করুন।
- খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য বজায় রাখুন।
- খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ফার্মের মুরগি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সব ফার্মের মুরগি ক্ষতিকর—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তবে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা, অনিয়ম বন্ধ করা এবং নিরাপদ পোলট্রি উৎপাদন নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোক্তাদেরও সচেতন থেকে নিরাপদ উৎস থেকে খাদ্য কিনতে হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















