ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‘প্রিন্স’-এর পর নতুন সিনেমায় কবে ফিরছেন তাসনিয়া ফারিণ? চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা আলেমদের বিভক্তি দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আবরার হত্যা মামলায় শিশির মনিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, বহিষ্কারের দাবি রাশেদের বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সংসদীয় সহযোগিতা বাড়াতে ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ মাত্র ৮৫২ মিটারের জন্য রক্ষা, ভারতের স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ এড়াল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ দুই মাসের সর্বনিম্নের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ডিসেম্বর ঘিরে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান, এক মাসে গ্রেপ্তার ৫৩ হাজার স্বামীকে খুঁজতে ভারতে গিয়ে জানলেন তাঁর আগেই সংসার, থাই নারীর ৬০ লাখ রুপি দেওয়ার অভিযোগ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সার সংকটে বোরো ও রবি ফসল নিয়ে শঙ্কা, কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ সময় দেখুন

রবি ও বোরো মৌসুম সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় সার সংকট দেখা দিয়েছে। এক বস্তা সার কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কোথাও আবার সার নিতে গিয়ে ডিলারদের লোকজনের দুর্ব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল শাহী বাজারে বুধবার সকালে একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে নারী-পুরুষসহ শতাধিক কৃষককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দোকান বন্ধ থাকায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

চকপুর গ্রামের কৃষাণী শামসুন নাহার বেওয়া বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রবিশস্য ও বোরো ধান চাষ করেন। সারের প্রয়োজন থাকায় লাইনে দাঁড়ালেও তখন পর্যন্ত সার পাননি। সার না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  দুধ ছাড়াই পামওয়েল-রঙে নকল ঘি, কারখানায় ২ লাখ টাকা জরিমানা

খরমকুড়ি গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ডিলারের লোকজনের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার ও গালাগাল শুনতে হয়েছে। তাঁদের দাবি, চার বস্তা সারের দাম জমা নেওয়া হলেও দেওয়া হয়েছে দুই বস্তা এবং টাকা জমা দেওয়ার কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার মিজানুর রহমান।

সিংড়ার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, টিএসপি সারের চাহিদা বেশি থাকলেও তা না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ডিএপি নিতে গেলে কোথাও কোথাও ইউরিয়া নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সিধাখালী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, তাঁকে সার না দিয়ে সার দেওয়া হয়েছে বলে দোকান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। ভাগনাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল বাসার বলেন, সরিষা, ভুট্টা ও আলু চাষের উপযোগী সময় চলে এলেও দুদিন ঘুরেও তিনি সার পাননি।

আরও পড়ুনঃ  শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

এদিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নেও সার নিয়ে ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সার ডিলার আবদুর রাজ্জাক কয়েক দিন ধরে সংকটের কথা বলে আসছিলেন। বুধবার সার দেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত কৃষক তাঁর দোকানের সামনে জড়ো হন।

কৃষকের সংখ্যা বেড়ে গেলে ডিলার সার বিক্রি বন্ধ করে পুলিশে খবর দেন। এতে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক সারের গোডাউনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ  ‘সরলতাতেই থাকি, বাস্তবতাকেই ধারণ করি’, মহব্বতের আগে শাকিবের বার্তা

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফে আল মুঈজ উপস্থিত হন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট ডিলারকে বিভিন্ন ধরনের মোট ৭০৬ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সার বিতরণের সময় কয়েকশ কৃষক একসঙ্গে জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে কৃষকরা গোডাউনের দরজা-জানালা ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো সার না পাওয়ায় রবি ও বোরো মৌসুমের চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার বিতরণে হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘প্রিন্স’-এর পর নতুন সিনেমায় কবে ফিরছেন তাসনিয়া ফারিণ?

সার সংকটে বোরো ও রবি ফসল নিয়ে শঙ্কা, কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ

আপডেটের সময়: ১০:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রবি ও বোরো মৌসুম সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় সার সংকট দেখা দিয়েছে। এক বস্তা সার কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কোথাও আবার সার নিতে গিয়ে ডিলারদের লোকজনের দুর্ব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল শাহী বাজারে বুধবার সকালে একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে নারী-পুরুষসহ শতাধিক কৃষককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দোকান বন্ধ থাকায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

চকপুর গ্রামের কৃষাণী শামসুন নাহার বেওয়া বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রবিশস্য ও বোরো ধান চাষ করেন। সারের প্রয়োজন থাকায় লাইনে দাঁড়ালেও তখন পর্যন্ত সার পাননি। সার না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

খরমকুড়ি গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ডিলারের লোকজনের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার ও গালাগাল শুনতে হয়েছে। তাঁদের দাবি, চার বস্তা সারের দাম জমা নেওয়া হলেও দেওয়া হয়েছে দুই বস্তা এবং টাকা জমা দেওয়ার কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার মিজানুর রহমান।

সিংড়ার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, টিএসপি সারের চাহিদা বেশি থাকলেও তা না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ডিএপি নিতে গেলে কোথাও কোথাও ইউরিয়া নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সিধাখালী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, তাঁকে সার না দিয়ে সার দেওয়া হয়েছে বলে দোকান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। ভাগনাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল বাসার বলেন, সরিষা, ভুট্টা ও আলু চাষের উপযোগী সময় চলে এলেও দুদিন ঘুরেও তিনি সার পাননি।

আরও পড়ুনঃ  দুধ ছাড়াই পামওয়েল-রঙে নকল ঘি, কারখানায় ২ লাখ টাকা জরিমানা

এদিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নেও সার নিয়ে ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সার ডিলার আবদুর রাজ্জাক কয়েক দিন ধরে সংকটের কথা বলে আসছিলেন। বুধবার সার দেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত কৃষক তাঁর দোকানের সামনে জড়ো হন।

কৃষকের সংখ্যা বেড়ে গেলে ডিলার সার বিক্রি বন্ধ করে পুলিশে খবর দেন। এতে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক সারের গোডাউনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ  আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে খেলবেন শান্ত

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফে আল মুঈজ উপস্থিত হন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট ডিলারকে বিভিন্ন ধরনের মোট ৭০৬ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সার বিতরণের সময় কয়েকশ কৃষক একসঙ্গে জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে কৃষকরা গোডাউনের দরজা-জানালা ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো সার না পাওয়ায় রবি ও বোরো মৌসুমের চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার বিতরণে হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।