যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অবিলম্বে কমানোর জন্য দেশের তেল বিক্রেতাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পাম্পে তেলের দাম না কমানো হলে সংশ্লিষ্টদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে।
সোমবার (২৯ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘পেট্রোলিয়াম বিক্রেতাদের অবশ্যই খুব দ্রুত তেলের দাম কমাতে হবে। বাজারে কোনো ধরনের অবৈধ মূল্যবৃদ্ধি বা অতিরিক্ত মুনাফা করা বরদাশত করা হবে না, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।’
তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতি গ্যালন তেলের দাম আড়াই ডলারের কাছাকাছি নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে এবং সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থে দ্রুত মূল্য কমাতে হবে।
নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার সমালোচনা করেন। তিনি সেখানে পেট্রোলের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর কমানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, খুব শিগগিরই করের পরিমাণ মূল পণ্যের দামের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ট্রাম্পের জীবাশ্ম জ্বালানি সম্প্রসারণ নীতির কড়া সমালোচক। তিনি আগামী ২০ বছরের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়াকে কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা শুরুর পর বিশ্ববাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৫ সালে বড় তেল দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিতর্কিত তেল পাইপলাইনও জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৪ জুন ট্রাম্প মার্কিন বিচার বিভাগকে বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ঠকানোর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইরান ইস্যুকে ঘিরে বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার মুখে রয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, এ সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 





















