
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনায় আবারও আলোচনায় এসেছে ইরান-এর উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি। বিশেষ করে সেজ্জিল, খেইবার শেকান ও খোররামশাহর—এই তিন ব্যালিস্টিক মিসাইলকে সামরিক বিশ্লেষকরা আখ্যা দিচ্ছেন ইরানের ‘ফ্যান্টাস্টিক থ্রি’ নামে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতি, পাল্লা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা ইসরাইল-এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত মিসাইলগুলোর একটি হলো ‘সেজ্জিল’। এটি দুই ধাপের সলিড ফুয়েল ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার পাল্লা প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার। অত্যন্ত উচ্চগতিতে ছুটতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে বলে দাবি করা হয়। ফলে প্রচলিত রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একে শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে ‘খোররামশাহর’ মিসাইল বহন করতে পারে ভারী ওয়ারহেড এবং একসঙ্গে বহু ক্লাস্টার মিউনিশন ছড়িয়ে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে বিপুল সংখ্যক ছোট আকারের বিস্ফোরক লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করার কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
‘খেইবার শেকান’ তুলনামূলক নতুন প্রজন্মের সলিড ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র। এটি দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায় এবং উচ্চগতিতে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরাইল-এর কাছে আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং ও অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেমের মতো বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও একই সঙ্গে বহু উচ্চগতির ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা চাপে পড়ে যেতে পারে।
তবে সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ যাচাই সবসময় সম্ভব হয় না। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রচারমূলক তথ্য, মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও কৌশলগত বার্তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।





















