ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‘বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই’: উয়েফা চীনে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ ভিনিসিয়ুসকে দলে টানতে প্রস্তুত আর্সেনাল, চুক্তি বাড়াতে মরিয়া রিয়াল মাদ্রিদ বিপিএল না হলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা তাওহীদ হৃদয়ের সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিল্পখাতে গ্যাস সংকট: বিটিএমএ সভাপতি, সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর আইএমএফের সবুজসংকেত পেলেই নবম পে স্কেল ঘোষণা সিআইডির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, বিপাকে বরগুনার দুই সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে চীনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ ইরানের হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির, মৌলভীবাজারের পদযাত্রা স্থগিত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

আগামীর স্বৈরাচারী সরকার কীভাবে গড়ে উঠতে পারে: ‘আইনতন্ত্র’ ও ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের ঝুঁকি

 

লেখক আহমেদ শামীম তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতর থেকেই কীভাবে ধীরে ধীরে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের মতো শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, এটি হঠাৎ ঘটে না; বরং আইন, সংসদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার একটি প্রক্রিয়া তৈরি হয়, যাকে তিনি ‘কর্তৃত্ববাদী আইনতন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এই ধারণার মূল কথা হলো—নির্বাচিত সরকারগুলো ধীরে ধীরে আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই এমন পরিবর্তন আনে, যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিরোধী দলের ভূমিকা সীমিত হয়ে যায়, আদালত ও প্রশাসনও একপর্যায়ে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবের বাইরে থাকতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  মতিঝিলে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অতীতের কিছু সরকারকে ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ভবিষ্যতেও এমন ঝুঁকি একেবারে উধাও হয়নি। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর শক্ত অবস্থান, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং দুর্বল বিরোধী কাঠামো থাকলে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  ৫৫ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি নড়াইলের গণকবর, শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও স্মৃতিস্তম্ভের দাবি

লেখকের মতে, যদি কোনো দল সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়, তবে তারা সহজেই আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এতে বিরোধী মত উপেক্ষিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য দুর্বল হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এটি একটি ‘নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রে’ রূপ নিতে পারে, যেখানে নির্বাচন থাকলেও প্রতিযোগিতা কার্যত সীমিত হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা, সুশীল সমাজের একটি অংশের অবস্থান এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিভাজনও এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। ফলে পুরো ব্যবস্থাই এমনভাবে দাঁড়িয়ে যায়, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারকে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই বৈধতা দেওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  আসিয়ান ফোরাম শেষে মালদ্বীপ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সবশেষে লেখক সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা ঠেকাতে শুরু থেকেই ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। নইলে গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়ে আবার নতুন করে শুরু করার চক্রে আটকে যেতে পারে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই’: উয়েফা

আগামীর স্বৈরাচারী সরকার কীভাবে গড়ে উঠতে পারে: ‘আইনতন্ত্র’ ও ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের ঝুঁকি

আপডেটের সময়: ০৭:০১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

 

লেখক আহমেদ শামীম তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতর থেকেই কীভাবে ধীরে ধীরে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের মতো শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, এটি হঠাৎ ঘটে না; বরং আইন, সংসদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার একটি প্রক্রিয়া তৈরি হয়, যাকে তিনি ‘কর্তৃত্ববাদী আইনতন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এই ধারণার মূল কথা হলো—নির্বাচিত সরকারগুলো ধীরে ধীরে আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই এমন পরিবর্তন আনে, যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিরোধী দলের ভূমিকা সীমিত হয়ে যায়, আদালত ও প্রশাসনও একপর্যায়ে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবের বাইরে থাকতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বস্তি: কুড়িগ্রামে ৭ দিনের পরিকল্পিত লোডশেডিং স্থগিত

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অতীতের কিছু সরকারকে ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ভবিষ্যতেও এমন ঝুঁকি একেবারে উধাও হয়নি। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর শক্ত অবস্থান, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং দুর্বল বিরোধী কাঠামো থাকলে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় ইউএইর সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

লেখকের মতে, যদি কোনো দল সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়, তবে তারা সহজেই আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এতে বিরোধী মত উপেক্ষিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য দুর্বল হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এটি একটি ‘নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রে’ রূপ নিতে পারে, যেখানে নির্বাচন থাকলেও প্রতিযোগিতা কার্যত সীমিত হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা, সুশীল সমাজের একটি অংশের অবস্থান এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিভাজনও এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। ফলে পুরো ব্যবস্থাই এমনভাবে দাঁড়িয়ে যায়, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারকে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই বৈধতা দেওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  চীনে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

সবশেষে লেখক সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা ঠেকাতে শুরু থেকেই ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। নইলে গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়ে আবার নতুন করে শুরু করার চক্রে আটকে যেতে পারে।