ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি অতীত ভুলে আমিরাতের সঙ্গে নতুন শুরুর ঘোষণা ইরানের চ্যালেঞ্জার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, সর্বোচ্চ গোলদাতা রিমন মালয়েশিয়ায় যৌথ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৪৭২ বিদেশি আটক জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: ৪৫ বছর পর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ ১২ দিনে দেশে এলো ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স শি জিনপিংয়ের বিশেষ বিমান ও বুলেটপ্রুফ গাড়িতে যেসব সুবিধা লিফট ছেড়ে সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আমদানি কমিয়ে দেশীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, নোটিশ আরও ১০০টিকে
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

আগামীর স্বৈরাচারী সরকার কীভাবে গড়ে উঠতে পারে: ‘আইনতন্ত্র’ ও ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের ঝুঁকি

 

লেখক আহমেদ শামীম তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতর থেকেই কীভাবে ধীরে ধীরে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের মতো শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, এটি হঠাৎ ঘটে না; বরং আইন, সংসদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার একটি প্রক্রিয়া তৈরি হয়, যাকে তিনি ‘কর্তৃত্ববাদী আইনতন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এই ধারণার মূল কথা হলো—নির্বাচিত সরকারগুলো ধীরে ধীরে আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই এমন পরিবর্তন আনে, যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিরোধী দলের ভূমিকা সীমিত হয়ে যায়, আদালত ও প্রশাসনও একপর্যায়ে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবের বাইরে থাকতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: ৪৫ বছর পর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অতীতের কিছু সরকারকে ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ভবিষ্যতেও এমন ঝুঁকি একেবারে উধাও হয়নি। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর শক্ত অবস্থান, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং দুর্বল বিরোধী কাঠামো থাকলে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  বরিশালে ময়লার স্তূপ থেকে দুই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

লেখকের মতে, যদি কোনো দল সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়, তবে তারা সহজেই আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এতে বিরোধী মত উপেক্ষিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য দুর্বল হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এটি একটি ‘নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রে’ রূপ নিতে পারে, যেখানে নির্বাচন থাকলেও প্রতিযোগিতা কার্যত সীমিত হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা, সুশীল সমাজের একটি অংশের অবস্থান এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিভাজনও এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। ফলে পুরো ব্যবস্থাই এমনভাবে দাঁড়িয়ে যায়, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারকে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই বৈধতা দেওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  বাঁধন-ফারিয়ার প্রথম জুটি, আসছে সামাজিক সচেতনতামূলক সিনেমা ‘লজ্জা’

সবশেষে লেখক সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা ঠেকাতে শুরু থেকেই ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। নইলে গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়ে আবার নতুন করে শুরু করার চক্রে আটকে যেতে পারে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

আগামীর স্বৈরাচারী সরকার কীভাবে গড়ে উঠতে পারে: ‘আইনতন্ত্র’ ও ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের ঝুঁকি

আপডেটের সময়: ০৭:০১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

 

লেখক আহমেদ শামীম তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতর থেকেই কীভাবে ধীরে ধীরে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের মতো শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, এটি হঠাৎ ঘটে না; বরং আইন, সংসদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার একটি প্রক্রিয়া তৈরি হয়, যাকে তিনি ‘কর্তৃত্ববাদী আইনতন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এই ধারণার মূল কথা হলো—নির্বাচিত সরকারগুলো ধীরে ধীরে আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই এমন পরিবর্তন আনে, যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিরোধী দলের ভূমিকা সীমিত হয়ে যায়, আদালত ও প্রশাসনও একপর্যায়ে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবের বাইরে থাকতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  বরিশালে ময়লার স্তূপ থেকে দুই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অতীতের কিছু সরকারকে ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ভবিষ্যতেও এমন ঝুঁকি একেবারে উধাও হয়নি। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর শক্ত অবস্থান, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং দুর্বল বিরোধী কাঠামো থাকলে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজাদের লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু

লেখকের মতে, যদি কোনো দল সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়, তবে তারা সহজেই আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এতে বিরোধী মত উপেক্ষিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য দুর্বল হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এটি একটি ‘নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রে’ রূপ নিতে পারে, যেখানে নির্বাচন থাকলেও প্রতিযোগিতা কার্যত সীমিত হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা, সুশীল সমাজের একটি অংশের অবস্থান এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিভাজনও এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। ফলে পুরো ব্যবস্থাই এমনভাবে দাঁড়িয়ে যায়, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারকে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই বৈধতা দেওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: ৪৫ বছর পর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ

সবশেষে লেখক সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা ঠেকাতে শুরু থেকেই ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। নইলে গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়ে আবার নতুন করে শুরু করার চক্রে আটকে যেতে পারে।