সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর মামলার অন্যতম আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে।
৪৫ বছর পর মামলায় নতুন অগ্রগতি
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০১১ সালে চট্টগ্রামের একটি আদালত মামলাটির কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গত জুলাইয়ে মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তার গ্রেপ্তারের পর মামলাটি নতুন করে সক্রিয় করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ছিলেন আত্মগোপনে
মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা যায়। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করতেন বলে মামলাসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।
দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ড
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এর আগের দিন, ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে যান তিনি। বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ মেটাতেই তার ওই সফর ছিল বলে জানা যায়।
চট্টগ্রামে পৌঁছে সফরের প্রথম দিন স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন জিয়াউর রহমান। পরে মধ্যরাতে তিনি সার্কিট হাউসে ঘুমাতে যান। কয়েক ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে হামলা চালালে গুলিতে নিহত হন তিনি।
পরদিন ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার খবর প্রচার করা হয়।
মোজাফফরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনের নাম মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও ঐতিহাসিক বিবরণে উঠে এসেছে।
এসব বিবরণ অনুযায়ী, মোজাফফর হোসেনই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে রাষ্ট্রপতি নিহত হওয়ার খবর জানান বলেও বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর কী হয়েছিল
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই সময় মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মঞ্জুর নিহত হন।
অন্যদিকে, ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ তখন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
দীর্ঘ সময় পর মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ায় জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং মামলার অমীমাংসিত বিষয়গুলো নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















