ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রোববার এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। খবর এএফপির।
গত এক সপ্তাহে হুতিদের ব্যাপক সামরিক অভিযানের পর হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। আইওএমের হিসাবে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং সংঘাত অব্যাহত থাকলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
একদিনেই বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা বেড়েছে
আইওএম জানিয়েছে, ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৮১৮ জনে। এর এক দিন আগেই জুলাই থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৭৬ হাজার বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্রতায় বাস্তুচ্যুতির হার আরও বেড়েছে। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার পরই বাস্তুচ্যুতির এই ঢেউ দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তাইজ
আইওএম বলছে, লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল ও তাইজ এলাকায় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। এর মধ্যে তাইজ প্রদেশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
শুধু এই প্রদেশ থেকেই প্রায় ৯ হাজার ২৮০টি পরিবার, অর্থাৎ আনুমানিক ৫৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাটি।
সংঘাতের কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, জীবিকা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ছুটছে।
ইয়েমেন ছাড়ছেন বাস্তুচ্যুতরা
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠায় বাস্তুচ্যুতদের একটি অংশ এখন ইয়েমেনের সীমান্তও পেরিয়ে যাচ্ছে। আইওএম জানিয়েছে, দুই হাজারের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে জিবুতিতে পৌঁছেছেন।
জাতিসংঘের সংস্থাটি এএফপিকে জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতদের প্রথম দলটি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিবুতির উপকূলে পৌঁছায়।
লোহিত সাগরের অপর পাশে জিবুতির অবস্থান হওয়ায় সমুদ্রপথে দেশটি ইয়েমেন থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষের একটি সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে।
বাব আল-মানদেব ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও কৌশলগত দ্বীপগুলো ঘিরে সামরিক তৎপরতার কারণে বাব আল-মানদেব প্রণালি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের অবরোধের পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইওএম সতর্ক করেছে, সংঘাতের তীব্রতা বাড়তে থাকলে আরও মানুষ বাড়িঘর ছাড়তে এবং সমুদ্রপথে ইয়েমেন থেকে পালানোর চেষ্টা করতে পারেন।
‘প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একটি পরিবার’
বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরে আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, যারা তাদের সবকিছু হারিয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সামনে অন্য কোনো পথ না থাকায় তারা প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়াই সমুদ্র পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে সহিংসতা বাড়ায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থাটি।
প্রতিবেদকের নাম 




















