ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাকি অংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৬ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকার বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দেশভিত্তিক বড় দুটি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে ভারত ও চীনের সঙ্গে। তবে বিষয়টিকে শুধু নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে ঘাটতি হিসেবে না দেখে সামগ্রিকভাবে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ওভার-অল এক্সপোর্টেবিলিটি বাড়ানো দরকার, এক্সপোর্টের এবিলিটি বাড়ানো দরকার।’
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব খাতে রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
নীতি সহায়তা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এসব খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি যেসব খাত এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, সেগুলোকে সক্ষম করে তোলার কাজ চলছে।
ভারতের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভারতের বিভিন্ন খাতেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকেও কিছু বাধা রয়েছে। একইভাবে গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতীয় একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশও এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়াতে সমন্বিতভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়িক সুবিধা বিবেচনায় ভারত থেকে আমদানি
বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কোনো দেশ যখন আমদানি করে, সাধারণত সরকার নয়; বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাই তা করেন। ব্যবসায়ীরা অন্য উৎসের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আমদানির উৎস নির্বাচন করেন।
ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবধান বেশি হলেও আমদানিকারকরা মূলত নিজেদের ব্যবসায়িক সুবিধা বিবেচনা করেই ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে থাকেন বলে জানান তিনি।
ই-কমার্সে জাতীয় কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ
এদিকে ই-কমার্স প্রতারণা রোধ ও গ্রাহকদের অর্থ সুরক্ষায় নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে কি না—বিরোধীদলের সংরক্ষিত নারী আসন-৩৯-এর সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স ও ডিজিটাল ট্রেডের জন্য একটি ‘জাতীয় কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, ই-কমার্স ও ডিজিটাল ট্রেডের জন্য একটি জাতীয় কর্তৃপক্ষ গঠন করা গেলে পুরো খাতকে আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 


















