ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যাত্রীবিহীন উড়োজাহাজে তল্লাশি, সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার সোনা ১৫ ঘণ্টা পর জামালপুরে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক গাজায় ভয়াবহ পয়ঃনিষ্কাশন সংকট, প্রতিদিন সাগরে যাচ্ছে ৪০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ৯১ বছরের গুণা মায়ার অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরা কুয়েত ও আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা ইরাকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত্যু, ২৫ দিন পর দেশে ফিরল রেজাউলের লাশ অসুস্থ হয়ে মিডটার্মে অনুপস্থিত, দিতে হবে জরিমানা—ক্ষুব্ধ বেরোবির শিক্ষার্থীরা কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট এশিয়া-ইউরোপে চামড়াজাত পণ্যের বাজার বাড়াতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

গাজায় ভয়াবহ পয়ঃনিষ্কাশন সংকট, প্রতিদিন সাগরে যাচ্ছে ৪০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:২০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ সময় দেখুন

 

যুদ্ধ ও অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে। ফিলিস্তিনি ওয়াটার অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত ও দূষিত বর্জ্য এবং পয়োনিষ্কাশন পানি উন্মুক্ত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

প্যালেস্টাইন টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি ভূমধ্যসাগরে গিয়ে পড়ছে। বাকি প্রায় ১৫ হাজার ঘনমিটার ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও ভূগর্ভস্থ নালার মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির উৎসও মারাত্মক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সংকটে পড়লেই জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখে: আব্দুল বারী

বন্ধ পাঁচটি প্রধান শোধনাগার

সংকটের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে গাজার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোর দিকে তাকালে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজার পাঁচটি প্রধান বর্জ্য শোধনাগারের সবগুলোই বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ।

যুদ্ধের আগে গাজায় প্রায় ৭৪টি পাম্পিং স্টেশন চালু থাকলেও এখন মাত্র ১৮টি কোনোভাবে আংশিক সচল রয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের আগে যেখানে ৮৫ শতাংশের বেশি মানুষ সুসংগঠিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন, সেখানে বর্তমানে এই সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ৪৫ শতাংশ মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  শাড়ি প্রতারণার অভিযোগে তিশার বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের তদন্তে যা উঠে এলো

একই সঙ্গে বর্জ্য শোধনের সক্ষমতাও দৈনিক ১ লাখ ৮৫ হাজার ঘনমিটার থেকে নেমে শূন্যে ঠেকেছে।

চালুর চেষ্টা ‘শেখ এজলিন’ প্ল্যান্ট

তবে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) সহায়তায় ‘শেখ এজলিন’ বর্জ্য শোধনাগারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্ল্যান্টটি সচল করা সম্ভব হলে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা যাবে। পরবর্তী সময়ে এর সক্ষমতা বাড়িয়ে দৈনিক ৬৫ হাজার ঘনমিটার পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

ফিলিস্তিনি ওয়াটার অথরিটি সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি, পানির পাম্প, জেনারেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ ও ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জায়গা দখলের অভিযোগ

অপরিশোধিত মানববর্জ্য নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ায় গাজায় প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরীয় সামুদ্রিক পরিবেশেরও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামোর মধ্যে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা না গেলে গাজায় মানবিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে আরও বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিপর্যয়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যাত্রীবিহীন উড়োজাহাজে তল্লাশি, সিটের নিচে ২০ কোটি টাকার সোনা

গাজায় ভয়াবহ পয়ঃনিষ্কাশন সংকট, প্রতিদিন সাগরে যাচ্ছে ৪০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য

আপডেটের সময়: ০৬:২০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

যুদ্ধ ও অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে। ফিলিস্তিনি ওয়াটার অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত ও দূষিত বর্জ্য এবং পয়োনিষ্কাশন পানি উন্মুক্ত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

প্যালেস্টাইন টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি ভূমধ্যসাগরে গিয়ে পড়ছে। বাকি প্রায় ১৫ হাজার ঘনমিটার ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও ভূগর্ভস্থ নালার মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির উৎসও মারাত্মক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জায়গা দখলের অভিযোগ

বন্ধ পাঁচটি প্রধান শোধনাগার

সংকটের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে গাজার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোর দিকে তাকালে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজার পাঁচটি প্রধান বর্জ্য শোধনাগারের সবগুলোই বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ।

যুদ্ধের আগে গাজায় প্রায় ৭৪টি পাম্পিং স্টেশন চালু থাকলেও এখন মাত্র ১৮টি কোনোভাবে আংশিক সচল রয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের আগে যেখানে ৮৫ শতাংশের বেশি মানুষ সুসংগঠিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন, সেখানে বর্তমানে এই সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ৪৫ শতাংশ মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  শাড়ি প্রতারণার অভিযোগে তিশার বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের তদন্তে যা উঠে এলো

একই সঙ্গে বর্জ্য শোধনের সক্ষমতাও দৈনিক ১ লাখ ৮৫ হাজার ঘনমিটার থেকে নেমে শূন্যে ঠেকেছে।

চালুর চেষ্টা ‘শেখ এজলিন’ প্ল্যান্ট

তবে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) সহায়তায় ‘শেখ এজলিন’ বর্জ্য শোধনাগারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্ল্যান্টটি সচল করা সম্ভব হলে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা যাবে। পরবর্তী সময়ে এর সক্ষমতা বাড়িয়ে দৈনিক ৬৫ হাজার ঘনমিটার পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

ফিলিস্তিনি ওয়াটার অথরিটি সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি, পানির পাম্প, জেনারেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ ও ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  প্রক্সি দিয়ে লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা, যোগদান করতে এসে ধরা

অপরিশোধিত মানববর্জ্য নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ায় গাজায় প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরীয় সামুদ্রিক পরিবেশেরও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামোর মধ্যে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা না গেলে গাজায় মানবিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে আরও বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিপর্যয়।