বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অসুস্থতার কারণে মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অনুপস্থিত হলে জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। এ ক্ষেত্রে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ২০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অসুস্থতা বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত হলে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করা অযৌক্তিক।
যেভাবে কার্যকর হয়েছে সিদ্ধান্ত
বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৫৭তম সভার সুপারিশের ভিত্তিতে ৩০ জুন সিন্ডিকেটের ১২তম সভায় সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করা হয়। গত ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অনুপস্থিত হলে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জরিমানা দিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে স্নাতক (সম্মান) শিক্ষার্থীকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহের শর্তে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এ অর্থ আদায় করা হবে।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা যথানিয়মে পারিতোষিক বিলের মাধ্যমে পরীক্ষার পারিতোষিক পাবেন।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে অদূরদর্শী বলে মন্তব্য করেছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। অসুস্থতা কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে ১ হাজার ২০০ বা ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নেজাজ আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে যেকোনো সময় কেউ অসুস্থতা, বিপদ বা পারিবারিক সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। সবার আর্থিক সক্ষমতাও সমান নয়। তাই মিডটার্ম পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এমন জরিমানা আরোপ না করে শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিন রানাও সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, এত বেশি জরিমানা না নিয়ে চাইলে নামমাত্র ফি নির্ধারণ করা যেত।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, জরিমানা আদায় করাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, জরিমানার বিষয়টি মূল উদ্দেশ্য নয়। কারণে-অকারণে শিক্ষার্থীদের মিডটার্ম পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা বেড়ে গেছে। যে হারে শিক্ষার্থীরা মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না, ফাইনাল পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার সে তুলনায় কম।
প্রশাসনের ভাষ্য, নতুন নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীদের মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় নিয়মিত অংশগ্রহণের প্রবণতা বাড়বে। তবে অসুস্থতার মতো অনিবার্য কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও জরিমানা দিতে হবে—এই বিষয়টির যৌক্তিকতা নিয়েই মূলত আপত্তি তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রতিবেদকের নাম 



















