ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় রেলওয়ের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ মেম্বারের ছেলে আল আমিনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার আজমপুর কড়ি গাছতলা এলাকায় আখাউড়া-বিজয়নগর সড়কের পাশে রেলওয়ের জায়গায় প্রায় ১০ দিন ধরে সামিয়ানা টানিয়ে দিন-রাত স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে আসছেন আল আমিন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পত্তি দখল করে এ নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রেলওয়ের জায়গায় সামিয়ানা টানিয়ে নির্মাণসামগ্রী রেখে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সরকারি সম্পত্তি সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি জানার পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজে প্রাথমিকভাবে বাধা দেন। একই সঙ্গে কাজ বন্ধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে আল আমিন বলেন, আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনের লামিয়া স্টোরের মালিক সোহাগের মাধ্যমে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য রেজাউলকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। ওই টাকা দেওয়ার পর নির্মাণকাজে কেউ বাধা দেবে না বলে তাকে জানানো হয়েছিল। তবে পরে বাধা দেওয়ায় তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে আল আমিনের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরএনবি সদস্য রেজাউল। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা এবং এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
লামিয়া স্টোরের মালিক সোহাগ বলেন, এলাকায় প্রায় দেড়শ দোকান রয়েছে। অন্যরা যেভাবে দোকান করেছেন, আল আমিনও সেভাবেই করেছেন। তাকে শুধু পরিচয় করিয়ে দিতে বলা হয়েছিল এবং তিনি তা করেছেন। এরপর কীভাবে কী হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
স্থানীয় ৬ নম্বর ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া বলেন, রেলওয়ের জায়গায় দোকান নির্মাণের কথা তিনি শুনেছেন। তবে কীভাবে জায়গাটি দখল করে নির্মাণকাজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আল আমিনই ভালো বলতে পারবেন।
আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
রেলওয়ের ফিল্ড কাননগো মো. শহিদুজ্জামান বলেন, রেলওয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। জায়গাটি পরিদর্শন করে আল আমিনকে প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কাজ বন্ধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (কার্য-আইডব্লিউ) আব্দুর রউফ বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আখাউড়া সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এ.ই.এন) আবু হানিফ পাশা বলেন, রেলওয়ের জায়গায় কেউ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন না। বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আখাউড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রেলওয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি তারা শুনেছেন। এ বিষয়ে রেলওয়ে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো বিষয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, রেলের জায়গা কেউ দখল করতে পারবেন না। কেউ দখল করে ঘর বা দোকান নির্মাণ করলে সেটি অপরাধ। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















