মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে।
রোববার বৈঠক শেষে পেজেশকিয়ান জানান, দুই দেশ অতীতের বিরোধ পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
‘অতীত পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায়’
ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে বৈঠক শেষে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, সংকট শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নানা ঘটনা ঘটলেও আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে তাদের আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক হয়েছে।
পেজেশকিয়ানের ভাষায়, দুই পক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় শুরু করবে এবং ভবিষ্যৎকে একসঙ্গে গড়ে তুলবে।
আমিরাতকে ‘ভাইয়ের মতো’ দেখছে ইরান
বৈঠকে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা আঞ্চলিক অন্য কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ইরানের কোনো ক্ষোভ নেই। বরং দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমিরাতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো তাদের কাছে ভাইয়ের মতো। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পাশাপাশি বসবাস, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।
তবে ইরানের আপত্তির জায়গা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এসব দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো। তার অভিযোগ, এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হচ্ছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো মিত্র দেশের উচিত নয় নিজেদের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি এমনভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া, যেখান থেকে প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা চালানো হয়।
হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় বৈঠক
এদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বৈঠক নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে বৈঠক করল কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।
আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চলছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ইরান ও আমিরাতের সম্পর্কেও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর দিল্লিতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে এটি ছিল প্রথম সরাসরি বৈঠক।
এর আগে গত মাসে ইরানের সঙ্গে অর্থ ও বাণিজ্যিক লেনদেন স্থগিত করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।
তবে সাম্প্রতিক এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন পথ তৈরির ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















