
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) বৈশ্বিক অর্থনীতি ছিল চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত উত্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী মুদ্রানীতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে শেয়ার, মুদ্রা ও পণ্যের দামে বড় ওঠানামা দেখা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধাক্কা লাগে। সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তার ফলে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই তেলের দাম এক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, যদিও পরবর্তীতে তা কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
অন্যদিকে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এশিয়ার প্রযুক্তি খাতে নতুন গতি আনে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর ও মেমোরি চিপ কোম্পানিগুলো এই প্রবৃদ্ধির বড় সুবিধাভোগী হয়। তবে সামগ্রিকভাবে বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের চাপ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা বজায় থাকে।
মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। জাপানি ইয়েন বহু দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে নেমে যায়, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার ওন, থাইল্যান্ডের বাত ও ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহেও পতন দেখা যায়।
নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দাম শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় উঠলেও পরে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও সুদের হার বৃদ্ধির কারণে তা কমে আসে। একই সময়ে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বন্ডবাজারেও সুদের হার বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, এআই বিনিয়োগের প্রতিযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলোতেও বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান নিয়ামক হিসেবে থাকবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















