কাতারে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি স্মার্ট মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশটির এনডাওমেন্টস অ্যান্ড ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স (আওকাফ) মন্ত্রণালয় রাজধানীর মইদার এলাকায় কায়েস বিন সাদ বিন উবাদাহ মসজিদ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে।
সরকারের নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্মিত এই মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং একটি আধুনিক সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হয়েছে।
সৌরশক্তিতে চলবে মসজিদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
স্মার্ট প্রযুক্তিতে নির্মিত মসজিদটিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া এয়ার কন্ডিশনার ও আলোকসজ্জার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বড় একটি অংশ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদন করা হবে।
এর ফলে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।
অজুর পানি যাবে পুনর্ব্যবহারে
মসজিদটির অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো অজুর পানি পুনর্ব্যবহারের আধুনিক ব্যবস্থা। অজুর পর ব্যবহৃত পানি বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিশোধন করে টয়লেট ব্যবহারের পাশাপাশি মসজিদের চারপাশের বাগান পরিচর্যায় কাজে লাগানো হবে।
এতে পানির অপচয় কমবে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং সবুজ পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আরও স্মার্ট মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা
মন্ত্রণালয়ের দাওয়াহ ও মসজিদবিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ বিন হামাদ আল কুয়ারি জানান, সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ সহযোগিতায় এই ব্যতিক্রমী প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে নির্মাণকাজ যেমন আরও নিখুঁত হয়েছে, তেমনি ভবনের স্থায়িত্বও বেড়েছে। ভবিষ্যতে কাতারের বিভিন্ন এলাকায় আরও স্মার্ট মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
টেকসই উন্নয়নের অংশ
এই প্রকল্পটি আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫–২০৩০ কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য দেশের মসজিদগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ধর্মীয় সেবার মান বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক স্থাপত্যশৈলী ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত এই স্মার্ট মসজিদ মুসল্লিদের জন্য আরও আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব ইবাদতের পরিবেশ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে এটি কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর টেকসই উন্নয়ন ও উন্নত জীবনযাত্রার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: কাতার ট্রিবিউন
প্রতিবেদকের নাম 




















