
কুমিল্লা নগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।
নিহত জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে নগরের মনোহরপুর এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বিদেশে গেলেও পরে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে সংসার ও আর্থিক বিষয় নিয়ে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের বাবা হানিফ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ফারিহাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘরের ভেতরের অবস্থান দেখে অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা হিসেবে মনে করছেন না।
এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শোক প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





















