দক্ষিণ লেবাননে টানা সামরিক অভিযানের ফলে হাজার হাজার পরিবার এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। লেবানন সরকারের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এ অঞ্চলের ৯০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৬ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংসের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।
আল জাজিরার লেবানন প্রতিনিধি জেইনা খোদর জানান, দক্ষিণাঞ্চলের তিবনিন শহরে অবস্থান করেও নিজ গ্রাম হাদাথায় ফিরতে পারছেন না বাসিন্দা হুসেইন সাবরা। মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা নিজের বাড়ির দিক থেকে প্রতিনিয়ত বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে হয় তাকে।
সাবরা বলেন, “নিজের বাড়ি, জীবিকা আর শৈশবের স্মৃতিগুলো ধ্বংস হতে দেখা কোনো মানুষের পক্ষেই মেনে নেওয়া সহজ নয়।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব।
তিবনিনের বাসিন্দা আহমেদ হামজা জানান, অনেক পরিবার পুরো বাড়ি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য না থাকায় শুধু বসবাসের উপযোগী করার মতো সামান্য সংস্কার করছে। তবে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ার আশঙ্কায় তাদের জীবনজুড়ে এখন আতঙ্ক।
তার ভাষায়, “মানুষ শুধু মাথা গোঁজার মতো করে ঘর মেরামত করছে। কিন্তু কারও মনেই নিরাপত্তার অনুভূতি নেই। সবাই আশঙ্কা করছে, আবারও হামলা শুরু হতে পারে।”
যারা ইতোমধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন, তাদের জীবনও স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয়দের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চয়তা এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হুসেইন বলেন, “প্রতিটি বিস্ফোরণের শব্দে শিশুরা ভয়ে কেঁপে ওঠে। পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে, আর আমাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সংঘাতে শুধু ঘরবাড়ি নয়, কৃষিজমি, জীবিকা ও সামাজিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ থেমে গেলেও দক্ষিণ লেবাননের মানুষের সামনে পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ এখনও দীর্ঘ ও কঠিন।
সূত্র: আল জাজিরা
প্রতিবেদকের নাম 




















