ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভর্তি না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হ্যাক রক্তমাখা সেই জাতীয় পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন জুলাইযোদ্ধা শেখ আজিজুর স্টেশনে ট্রেন রেখে উধাও চালক, এক ঘণ্টা পর ফিরতেই গন্তব্যের পথে সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস পুলিশ পরিচয়ে গভীর রাতে রিসোর্টে ডাকাতি, কর্মচারীদের জিম্মি করে লুট জিয়ার সৈনিকরা গত ১৬-১৭ বছরে শেখ হাসিনার একটি চুলও বাঁকা করতে পারেনি: সারজিস আলম  ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল, কবে, কখন ও কোথায় হবে ঐতিহাসিক ম্যাচ? বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে: সারজিস বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে ফলপ্রসূ আলোচনা: ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর বগুড়ায় ক্লিনিককে ৬০ হাজার, ভুয়া চিকিৎসককে ১ লাখ টাকা জরিমানা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৬৫তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

দক্ষিণ লেবাননে ধ্বংসস্তূপের নগরী, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ হাজারের বেশি বাড়িঘর

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

 

দক্ষিণ লেবাননে টানা সামরিক অভিযানের ফলে হাজার হাজার পরিবার এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। লেবানন সরকারের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এ অঞ্চলের ৯০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৬ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংসের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।

আরও পড়ুনঃ  দেশীয় প্রযুক্তির চিকিৎসা যন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা, স্বাস্থ্য খাতে গবেষণায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের ঘোষণা

আল জাজিরার লেবানন প্রতিনিধি জেইনা খোদর জানান, দক্ষিণাঞ্চলের তিবনিন শহরে অবস্থান করেও নিজ গ্রাম হাদাথায় ফিরতে পারছেন না বাসিন্দা হুসেইন সাবরা। মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা নিজের বাড়ির দিক থেকে প্রতিনিয়ত বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে হয় তাকে।

সাবরা বলেন, “নিজের বাড়ি, জীবিকা আর শৈশবের স্মৃতিগুলো ধ্বংস হতে দেখা কোনো মানুষের পক্ষেই মেনে নেওয়া সহজ নয়।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  ২৬ জুলাই বিএনপির আহ্বানের পর রাজপথে সক্রিয় হয় ছাত্রদল

তিবনিনের বাসিন্দা আহমেদ হামজা জানান, অনেক পরিবার পুরো বাড়ি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য না থাকায় শুধু বসবাসের উপযোগী করার মতো সামান্য সংস্কার করছে। তবে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ার আশঙ্কায় তাদের জীবনজুড়ে এখন আতঙ্ক।

তার ভাষায়, “মানুষ শুধু মাথা গোঁজার মতো করে ঘর মেরামত করছে। কিন্তু কারও মনেই নিরাপত্তার অনুভূতি নেই। সবাই আশঙ্কা করছে, আবারও হামলা শুরু হতে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  আজকের মুদ্রা বিনিময় হার: ডলার ১২৩.৩৬ টাকা, ইউরো ১৪২.৮০

যারা ইতোমধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন, তাদের জীবনও স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয়দের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চয়তা এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হুসেইন বলেন, “প্রতিটি বিস্ফোরণের শব্দে শিশুরা ভয়ে কেঁপে ওঠে। পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে, আর আমাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সংঘাতে শুধু ঘরবাড়ি নয়, কৃষিজমি, জীবিকা ও সামাজিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ থেমে গেলেও দক্ষিণ লেবাননের মানুষের সামনে পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ এখনও দীর্ঘ ও কঠিন।

সূত্র: আল জাজিরা

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভর্তি না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হ্যাক

দক্ষিণ লেবাননে ধ্বংসস্তূপের নগরী, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ হাজারের বেশি বাড়িঘর

আপডেটের সময়: ০৯:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

দক্ষিণ লেবাননে টানা সামরিক অভিযানের ফলে হাজার হাজার পরিবার এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। লেবানন সরকারের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এ অঞ্চলের ৯০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৬ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংসের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।

আরও পড়ুনঃ  দেশীয় প্রযুক্তির চিকিৎসা যন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা, স্বাস্থ্য খাতে গবেষণায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের ঘোষণা

আল জাজিরার লেবানন প্রতিনিধি জেইনা খোদর জানান, দক্ষিণাঞ্চলের তিবনিন শহরে অবস্থান করেও নিজ গ্রাম হাদাথায় ফিরতে পারছেন না বাসিন্দা হুসেইন সাবরা। মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা নিজের বাড়ির দিক থেকে প্রতিনিয়ত বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে হয় তাকে।

সাবরা বলেন, “নিজের বাড়ি, জীবিকা আর শৈশবের স্মৃতিগুলো ধ্বংস হতে দেখা কোনো মানুষের পক্ষেই মেনে নেওয়া সহজ নয়।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অভিযোগ, ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেন হাইকোর্ট

তিবনিনের বাসিন্দা আহমেদ হামজা জানান, অনেক পরিবার পুরো বাড়ি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য না থাকায় শুধু বসবাসের উপযোগী করার মতো সামান্য সংস্কার করছে। তবে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ার আশঙ্কায় তাদের জীবনজুড়ে এখন আতঙ্ক।

তার ভাষায়, “মানুষ শুধু মাথা গোঁজার মতো করে ঘর মেরামত করছে। কিন্তু কারও মনেই নিরাপত্তার অনুভূতি নেই। সবাই আশঙ্কা করছে, আবারও হামলা শুরু হতে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ

যারা ইতোমধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন, তাদের জীবনও স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয়দের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চয়তা এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হুসেইন বলেন, “প্রতিটি বিস্ফোরণের শব্দে শিশুরা ভয়ে কেঁপে ওঠে। পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে, আর আমাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সংঘাতে শুধু ঘরবাড়ি নয়, কৃষিজমি, জীবিকা ও সামাজিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ থেমে গেলেও দক্ষিণ লেবাননের মানুষের সামনে পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ এখনও দীর্ঘ ও কঠিন।

সূত্র: আল জাজিরা