ঢাকার জনসংখ্যার চাপ কমাতে গড়ে তোলা বৃহৎ আবাসন প্রকল্প পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে এখনও কাঙ্ক্ষিত জনবসতি গড়ে ওঠেনি। অনেক প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে সেখানে স্থায়ী বসতি খুবই সীমিত, ফলে প্রকল্প দুটি কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, Purbachal New Town Project-এ প্রায় ২৫ হাজারের বেশি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং Jhilmil Residential Project-এ রয়েছে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি প্লট। এসব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকার চাপ কমিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ন গড়ে তোলা।
তবে বাস্তব চিত্র বলছে, অনেক প্লট দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। কিছু ক্ষেত্রে ভবন নির্মাণ শুরু হলেও তা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। ফলে প্রত্যাশিতভাবে জনসংখ্যা স্থানান্তর সম্ভব হয়নি।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু প্লট বরাদ্দ দিলেই নগর বিকেন্দ্রীকরণ সফল হয় না। প্রয়োজন পর্যাপ্ত রাস্তা, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ পূর্ণাঙ্গ নাগরিক সুবিধা। এসব না থাকলে মানুষ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসে আগ্রহী হয় না।
তারা আরও বলেন, সরকারি অফিস, ব্যাংক ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানান্তর করা গেলে প্রকৃত অর্থে পূর্বাচল একটি কার্যকর শহরে পরিণত হতে পারবে এবং ঢাকার যানজট ও চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এদিকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণ না করলে জরিমানা আরোপের নিয়ম রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কিছু প্রকল্পে প্লটের পরিবর্তে ফ্ল্যাট দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত বসতি গড়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে, পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নের ধীরগতি ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্প এখনো পূর্ণাঙ্গ আবাসিক নগর হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি।





















