Dhaka ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সহজ প্রশ্ন, পরীক্ষা শেষে উৎফুল্ল এসএসসি পরীক্ষার্থীরা দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে: প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকট: বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে বিতর্ক সংরক্ষিত মহিলা আসন বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেলেন আ.লীগের এপিপি ত্যাগীদের ক্ষোভ ইরানের সঙ্গে চুক্তি আজই, দাবি ট্রাম্পের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে ১৪ নির্দেশনা সাবেক ইউএনও রুমানা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো অনুসন্ধানে কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার, আসছে ‘সম্পদ কর’ লঞ্চের ভাড়াও বাড়াতে চান মালিকরা, বিআইডব্লিউটিএ-কে চিঠি তেল নিতেই যদি দুপুর হয় ইনকাম করবো কখন, রাতে সিরিয়াল দিয়ে

সংরক্ষিত মহিলা আসন বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেলেন আ.লীগের এপিপি ত্যাগীদের ক্ষোভ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:১৬:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩২ সময় দেখুন

বান্দরবান প্রতিনিধি. বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেলেন আ.লীগের এপিপি
মাধবী মারমা
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলা সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। তিনি আগে কখনো বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিটিং, মিছিল বা সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বান্দরবান জেলায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার আমলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে কোন বিবেচনায় আওয়ামী লীগ আমলের দায়িত্বশীল নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হলো এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৩তম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। এ তালিকায় বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি নিয়ে গঠিত আসনে মাধবী মারমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  নিসআ যশোরে শ্রেষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত শামসুর রহমান জসিম

অ্যাডভোকেট মাধবী মারমার বাড়ি বান্দরবান জেলা শহরের মধ্যম পাড়ায়। তার স্বামী একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করেন।

ঘোষণার পর মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপির রাজপথের লড়াকু নেত্রী জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম লীনা বলেন, দলের সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ত্যাগী নেত্রী খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। রাজপথে খেয়ে না খেয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি দলের জন্য। দলের সুসময়ে মূল্যায়ন হবে- এটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দল যেটি ভালো মনে করেছে সেটিই করেছে।

আরও পড়ুনঃ  সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদে জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশীদ বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে মহিলা আসনে মনোনয়নের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছিল। দলের নীতি-নির্ধারকরা যেটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি আমরা সাধুবাদ জানাই। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

এদিকে বিতর্কিত ব্যক্তির নাম মহিলা আসনে মনোনয়নের ঘোষণায় সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মহল ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত ত্যাগী নেত্রীদের উপেক্ষা করে নতুন মুখকে মনোনয়ন দেওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত কেউ নয়। দলের জন্য তার কোনো ত্যাগ পরিশ্রম নেই। বরং তিনি আওয়ামী লীগের মতাদর্শের এবং আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকার আমলে লাভজনক পদের দায়িত্বে থেকে সুবিধাভোগীদের একজন। এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাকর্মী হারিয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  কাউখালীতে দরগাবাড়ি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বান্দরবানের স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সহজ প্রশ্ন, পরীক্ষা শেষে উৎফুল্ল এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

সংরক্ষিত মহিলা আসন বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেলেন আ.লীগের এপিপি ত্যাগীদের ক্ষোভ

আপডেটের সময়: ১২:১৬:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি. বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেলেন আ.লীগের এপিপি
মাধবী মারমা
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলা সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। তিনি আগে কখনো বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিটিং, মিছিল বা সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বান্দরবান জেলায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার আমলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে কোন বিবেচনায় আওয়ামী লীগ আমলের দায়িত্বশীল নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হলো এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৩তম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। এ তালিকায় বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি নিয়ে গঠিত আসনে মাধবী মারমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  পঞ্চগড়ের দুই মাদকাবারী ৬ মাসের কারাদণ্ড

অ্যাডভোকেট মাধবী মারমার বাড়ি বান্দরবান জেলা শহরের মধ্যম পাড়ায়। তার স্বামী একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করেন।

ঘোষণার পর মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপির রাজপথের লড়াকু নেত্রী জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম লীনা বলেন, দলের সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ত্যাগী নেত্রী খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। রাজপথে খেয়ে না খেয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি দলের জন্য। দলের সুসময়ে মূল্যায়ন হবে- এটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দল যেটি ভালো মনে করেছে সেটিই করেছে।

আরও পড়ুনঃ  কাউখালীতে দরগাবাড়ি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশীদ বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে মহিলা আসনে মনোনয়নের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছিল। দলের নীতি-নির্ধারকরা যেটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি আমরা সাধুবাদ জানাই। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

এদিকে বিতর্কিত ব্যক্তির নাম মহিলা আসনে মনোনয়নের ঘোষণায় সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মহল ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত ত্যাগী নেত্রীদের উপেক্ষা করে নতুন মুখকে মনোনয়ন দেওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত কেউ নয়। দলের জন্য তার কোনো ত্যাগ পরিশ্রম নেই। বরং তিনি আওয়ামী লীগের মতাদর্শের এবং আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকার আমলে লাভজনক পদের দায়িত্বে থেকে সুবিধাভোগীদের একজন। এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাকর্মী হারিয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  গৌরীপুরের সন্ত্রাসী রুবেল বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পেতে চায় রিপন পরিবার বর্গ

এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বান্দরবানের স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।