বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ভারত ও চীন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও, কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার নিয়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে জানা গেছে, ভারতে এখনো বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। রিলায়েন্স–ডিজনি যৌথ উদ্যোগ সম্প্রতি প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিলেও তা ফিফার প্রত্যাশিত অঙ্কের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় সমঝোতা হয়নি। একই সময়ে সনি গ্রুপও আলোচনা করলেও তারা শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব দেয়নি।
অন্যদিকে চীনের ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার চুক্তির ঘোষণা আসেনি। অথচ ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল দর্শকের প্রায় অর্ধেকই এসেছে চীন থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় দুই বাজারে এত দেরিতে সম্প্রচার চুক্তি অনিশ্চিত থাকা বেশ অস্বাভাবিক ঘটনা। এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আগেভাগেই স্বত্ব নিশ্চিত করেছিল এবং প্রচারণা শুরু করেছিল।
২০২২ বিশ্বকাপে বৈশ্বিক দর্শকের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে চীন ও ভারত থেকে, যা ডিজিটাল স্ট্রিমিং ও টেলিভিশন—উভয় ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব ফেলেছিল।
এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এই সময়ের মধ্যে সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত করা, অবকাঠামো প্রস্তুত করা এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে ফিফা শুরুতে ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্বের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলার চেয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে রিলায়েন্স–ডিজনি মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ ভারতের সময় অনুযায়ী গভীর রাতে সম্প্রচার হওয়ায় দর্শকসংখ্যা কমতে পারে, যা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বের দুই বিশাল ফুটবল দর্শকগোষ্ঠীর জন্য বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।





















