মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) প্রথম এলিমিনেটর ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ওয়াশিংটন ফ্রিডম। ২৬৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ৮ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান তাড়ার নতুন রেকর্ড গড়েছে দলটি।
ওকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে এমআই নিউইয়র্ক নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ২৬৬ রান, যা মেজর লিগ ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
ইনিংসের শুরুতে ওপেনার মোনাঙ্ক প্যাটেল দ্রুত ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে কুইন্টন ডি কক ও নিকোলাস পুরান ৪২ বলে ১১৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি এনে দেন। ডি কক ২৪ বলে ৫১ রান করেন।
এরপর নিকোলাস পুরান ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, যা এমএলসির ইতিহাসে দ্রুততম শতরান। ১৩টি ছক্কায় ৩৩ বলে ১০৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। শেষদিকে কাইরন পোলার্ড ২৫ বলে ৬৪ এবং ট্রেন্ট বোল্ট ১০ বলে ২২ রান যোগ করে নিউইয়র্ককে বিশাল সংগ্রহ এনে দেন।
ওয়াশিংটনের হয়ে রাচিন রাভিন্দ্রা বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন।
২৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়াশিংটন। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান প্রথম দুই ওভারেই মিচেল ওয়েন ও রাচিন রাভিন্দ্রাকে বোল্ড করে মাত্র ১০ রানে দুই উইকেট তুলে নেন। সাকিব শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।
তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন স্টিভেন স্মিথ ও আন্দ্রিয়েস হাউস। তৃতীয় উইকেটে তারা ৮৯ বলে ২৪১ রানের অবিশ্বাস্য জুটি গড়েন, যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ এবং যেকোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি।
আন্দ্রিয়েস হাউস ৫১ বলে ১৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। ১০টি চার ও ১২টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি এমএলসিতে কোনো মার্কিন ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
অন্যদিকে স্টিভেন স্মিথ মাত্র ৪০ বলে নিজের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ৪৮ বলে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা।
শেষ দিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ছক্কায় ১৮.৪ ওভারেই ৪ উইকেটে ২৭০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ওয়াশিংটন ফ্রিডম।
এই ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ৫১টি ছক্কা হয়, যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন বিশ্বরেকর্ড। পাশাপাশি ২৬৬ রান তাড়া করে জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান তাড়ার আগের রেকর্ডও ভেঙে দেয় ওয়াশিংটন ফ্রিডম।
প্রতিবেদকের নাম 




















