দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং বাজারের বৈচিত্র্য বাড়াতে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগপণ্য যুক্ত করা, বাজারের গভীরতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কমিশন কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের মূল বিষয় ছিল আধুনিক বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে কমোডিটি ডেরিভেটিভসের ভূমিকা ও বিনিয়োগের বৈচিত্র্য।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে সুষ্ঠু লেনদেন নিশ্চিত করা, কারসাজি প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশের পুঁজিবাজারে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্য সামনে রেখে নজরদারি জোরদার, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সংস্কার এবং বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজারের মূলধন বাড়াতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), সরাসরি তালিকাভুক্তি এবং কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি করপোরেট বন্ড, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের (রেইট) মতো নতুন বিনিয়োগপণ্য চালুর উদ্যোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং বাজার আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিনের সুশাসন ও ব্যবস্থাপনাগত সংকট দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। সক্রিয় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের সংখ্যার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দেখা গেছে। আস্থা পুনরুদ্ধারে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগপণ্য চালু করা জরুরি।
তিনি জানান, বন্ড, ট্রেজারি বিল ও মিউচুয়াল ফান্ডের মতো পণ্য থাকলেও এসবের লেনদেন প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দেশি-বিদেশি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পণ্যের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সিএসই কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজারের আইনি ও কারিগরি কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে এবং ব্রোকারদের জন্য মক ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে বিএসইসির সহযোগিতা চান তিনি।
অনুষ্ঠানে কমোডিটি বাজারের সম্ভাবনা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং পুঁজিবাজারে নতুন পণ্য যুক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর জেনারেল ম্যানেজার ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান মো. মুর্তুজা আলম।
আলোচনায় অংশ নেন বি রিচ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম, লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক খন্দকার সাফফাত রেজা এবং সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক, ট্রেকের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে সিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগের ঝুঁকি মোকাবিলা ও বাজারের স্থিতিশীলতা বাড়াতে শেয়ার, স্থির আয়ের বিনিয়োগপণ্য, কমোডিটি ডেরিভেটিভস ও মুদ্রাবাজারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে পেনশন, বিমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সেমিনার শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান সিএসইর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সেখানে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ চালুর অগ্রগতি, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ বাজার চালুর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
প্রতিবেদকের নাম 






















