
চোট কাটিয়ে পুনর্বাসন শেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই মাঠে ফেরার অপেক্ষায় ৫৬৭ উইকেট শিকারি অফ স্পিনার।
বাংলাদেশের জন্য ‘তৈরি’ লায়ন, খেলতে চান ১১ মাসে ২১ টেস্টের সবকটি
দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষ হয়েছে। নেটে বোলিংও শুরু করে দিয়েছেন ন্যাথান লায়ন। আগামী মাসে ব্রিজবেনে টেস্ট দলের ক্যাম্পে বোলিং করতেও তর সইছে না তার। মুখিয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আবার মাঠে নামার জন্যও। নতুন মৌসুমের শুরুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য তিনি শতভাগ প্রস্তুত হয়ে উঠবেন বলে নিশ্চিত করলেন। আগামী মৌসুমে ১১ মাসে যে ২১টি টেস্ট অপেক্ষায়, সবকটিরই অংশ হতে চান এই অফস্পিনার।
গত ডিসেম্বরে অ্যাশেজের অ্যাডিলেইড টেস্টের পর কোনো ধরনের ক্রিকেটেই খেলতে পারেননি লায়ন। ওই টেস্টের শেষের দিকে তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন এবং পেশি পুনরায় সংযুক্ত করার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে তার।
পরে ছিল নানা ধাপের পুনর্বাসন। সেই প্রক্রিয়াতেই নতুন করে আগ্রহ খুঁজে পেয়েছেন রোড বাইকিংয়ের প্রতি, যেখানে তিনি পাড়ি দিয়েছেন ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ। আসল কাজও শুরু করে দিয়েছেন। সিডনির ক্রিকেট সেন্ট্রালে সোমবার বোলিং করেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে আগামী মাসে ক্যাম্প করবে অস্ট্রেলিয়া দল।
ডারউইন টেস্ট দিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি শুরু ১৩ অগাস্ট। লায়ন কি ফিট হয়ে উঠতে পারবেন? ৩৮ বছর বয়সী স্পিনারের কোনো সংশয়ই নেই এটা নিয়ে।
“অবশ্যই, শতভাগ! বলতে পারেন, এখন আমি উড়ছি! খুব ভালো লাগছে আমার, খুব আত্মবিশ্বাসী… যেভাবে সবকিছু হয়েছে, তাতে আমি খুব খুশি। এই অবস্থায় আসতে অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, সেটা আড়ালে লুকানোর কিছু নেই। লম্বা সময় ধরে অনেক ধরে কাজ করতে হয়েছে এবং আরও অনেক কিছু করতে হয়েছে। সবকিছুই এটির (ফিট হয়ে ওঠার) অংশ।”
লায়নের চোটের বর্ণনা দিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার শারীরিক পারফরম্যান্স কোচ রস হেরিজ জানান, লায়ন সঠিক পথেই আছেন।
“বেশ গুরুতর আঘাত ছিল ছিল। সে তার ডান পা মাটিতে গেড়ে বলটি ধরার জন্য সেটির ওপর দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এতে হ্যামস্ট্রিংয়ের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে এবং বড় ধাক্কা সহ্য করতে হয়।”
‘আমাদের কিছু শারীরিক মাপকাঠি আছে, যা আমরা পুরো প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করি এবং সবকিছু ঠিকঠাক চলছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু চেকপয়েন্টও রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সে সবগুলোই সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।”
এই ফিট হয়ে ওঠা খুব জরুরি ছিল লায়নের জন্য। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য। গত কয়েক মাসে অনেক ম্যাচ তিনি খেলতে পারেননি। তবে সামনের মৌসুমের যে ব্যস্ততা, এটার তুলনীয় কিছু নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজটি দিয়ে ১১ মাসের মধ্যে ২০টি টেস্ট নিশ্চিতাবেই খেলবে অস্ট্রেলিয়া। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে টেস্ট হবে ২১টি।
৫৬৭ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সফলতম অফ স্পিনার ও দ্বেতিীয় সফলতম বোলার সামনের মৌসুমেই হয়তো ৬০০ ছাড়িয়ে যা। তবে ২১ টেস্টের কতগুলি খেলতে পারবেনে, সেই প্রশ্ন আছে।
লায়নের বয়স সামনে হবে ৩৯। আগের চেয়ে চোটও তার বেশি হচ্ছে এখন। জাতীয় নির্বাচক জর্জ বেইলি ও প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড তার ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় নির্বাচক জর্জ বেইলি ও প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ সতর্কতামূলক মন্তব্য করেছেন, যা কৌতূহল জাগিয়েছে যথেষ্টই।
ওসব মন্তব্য লায়নের চোখও এড়ায়নি। তিনিও সাফ জানিয়ে দিলেন, সব ম্যাচই খেলতে চান।
“জর্জের (বেইলি) মন্তব্য দেখেছি আমি, তাকে ফোনও করেছিলাম। অ্যান্ড্রুর (ম্যাকডোনাল্ড) মন্তব্যও দেখেছি, তাকেও ফোন করেছিলাম। আমি যদি প্রতিটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে না চাইতাম, তাহলে এখন এই সমস্ত কাজ করতাম না।”
“অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা নিশ্চিত ধরে রাখার অধিকার কারও নেই, তা-ই আমি জানি আমাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আমি ভালো খেলছি এবং সবকিছু ঠিকঠাক করছি। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলছি, সামনের প্রতিটি টেস্ট ম্যাচই খেলতে চাই।”
সব টেস্টে খেলা অবশ্য কঠিনই হবে তার জন্য। সেটা কেবল ফর্ম-ফিটনেসের কারণেই নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর আছে, যেখানে উইকেট পেস সহায়ক। দেশের মাঠে দিন-রাতের টেস্ট আছে। কৃত্রিম আলোর নিচে অনেক সময়ই স্পিনার খেলানো হয় না। সময়ই বলবে, ২১টির কতটি তিনি খেলতে পারেন।
লায়ন জানালেন, এই লম্বা সময় বাইরে থাকার দিনগুলিতেও অবসরের ভাবনা তার আসেনি। তবে সম্প্রতি ‘স্টেট অফ অরিজিন’ রাগবি লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে নিউ সাউথ ওয়েলসের চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন দেখার পর নিজের ভেতরে প্রতিযোগিতার স্পৃহা আরও তীব্রভাবে অনুভব করেছেন তিনি।
“অনেক মানুষের সামনে ওই ছেলেগুলো যো একটা রূপকথার মতো দৃশ্য তৈরি করেছে, সেটা দেখে এবং একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদের এমনটা করার ক্ষমতা থাকাটাই এই মুহূর্তে আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করছে। স্ত্রীর সঙ্গে বসেছিলাম আমি এবং সরাসরিই বললাম, আমি এখনই ছাড়তে প্রস্তুত নই, এই মুহূর্তে বরং এটাকে খুব মিস করছি।”
“সত্যি বলতে, আমার মনে হচ্ছিল, হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ার আগে আমি সম্ভবত গত ছয় বছরের মধ্যে সেরা বোলিং করছিলাম। এখন আমি জানি, সেই মানে পৌঁছানোর জন্য আমাকে কী করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জটি নিয়ে আমি সত্যিই খুব রোমাঞ্চিত।
arif 




















