ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রোলেক্স হাতে আপ্লুত শাকিব বললেন— ‘এটা এখন অমূল্য’ পুঠিয়ায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, ৬ দিন পর মামলা নিল পুলিশ মেসিকে দলে নেওয়ার ‘রসিকতা’ করলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট স্ত্রী আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে দুর্ঘটনায় আহত অভিনেতা জোভান, জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা মহাখালীতে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ; আটক ৩ ব্যাংক খাতে বড় ধস, লোকসান বেড়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ প্রতিনিধিদলের বৈঠক “সবার আগে বগুড়া নয়, সবার আগে বাংলাদেশ”— সংসদে এনসিপি এমপির বক্তব্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপর নজর রাখছে ইসরায়েল, দাবি ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

একটি জার্সির দাম যে কারণে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা

বিশ্বকাপ মানেই প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে উন্মাদনায় মেতে ওঠা। কিন্তু এমন যদি হয়, একটি জার্সি কিনতেই খরচ করতে হবে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে ফিফার বাজারে আনা বিশেষ ‘হোস্ট সিটি’ জার্সির দাম এখন ঠিক এতটাই।

এর একেকটি জার্সি কিনতে গুনতে হবে প্রায় ৪৬ হাজার টাকা। সাধারণ কোনো জার্সির চেয়ে এটি কেন এত আলাদা? আর কী এমন বিশেষ কারণ আছে, যার জন্য দাম এত বেশি?

গত মে মাসের শুরুর দিকে ফিফা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলোর জন্য বিশেষ ডিজাইনের সীমিতসংখ্যক কিছু জার্সি বিক্রির জন্য ছাড়া হয়। এর প্রতিটির দাম রাখা হয়েছে ৩৭৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৬ হাজার টাকা

এবারের বিশ্বকাপের টিকিট থেকে শুরু করে অন্যান্য সব জিনিসের চড়া দামের মতোই, জার্সির এই দাম নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আর ফুটবলপ্রেমীদের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণও আছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘মাল্টিন্যাশনাল’ একাদশ নিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে নেমেছিল মরক্কো

হোস্ট সিটি জার্সি কী?

এসব জার্সি সংগ্রহে রাখার জন্যই বানানো, অর্থাৎ লিমিটেড এডিশন

সীমিত সংস্করণ, আধুনিক প্রযুক্তি আর সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ—সব মিলিয়ে এই জার্সি শুধু পোশাক নয়, বরং একটি স্মারক হিসেবেই তুলে ধরছে ফিফা। বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজক শহরগুলোর জন্য বিশেষ ডিজাইনের এই জার্সিগুলো বাজারে আনা হয়েছে, যা হোস্ট সিটি জার্সি নামে পরিচিত।

মূলত ১৬টি আয়োজক শহরের প্রতিটির নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ফুটবল উন্মাদনাকে সম্মান জানাতে আলাদা ডিজাইনের এই জার্সিগুলো তৈরি করা হয়েছে।

কেন এত দাম?

এসব মোটেও সাধারণ কোনো জার্সি নয়। প্রতিটি শহরের জন্য মাত্র ৯৯৯টি করে জার্সি তৈরি করা হয়েছে। এগুলো মাঠে খেলার জন্য নয়, বরং ফুটবলপ্রেমীদের সংগ্রহে রাখার জন্য।

আরও পড়ুনঃ  ‘পর্তুগাল হেরেও যেতে পারত’: ড্রয়ের পর রোনালদোর স্বীকারোক্তি

বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরের প্রতিটির জন্য এই কালেকশনে একটি করে জার্সি থাকছে। ফিফা যদি তাদের তৈরি করা মোট ১৫ হাজার ৯৮৪টি জার্সির সব কটিই বিক্রি করতে পারে, তবে শুধু এই একটি কালেকশন থেকেই তাদের আয় হবে প্রায় ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ ৭০ কোটির বেশি টাকা

ডিজাইনে শহরের নিজস্ব পরিচয়

হোস্ট সিটি জার্সিগুলোর নকশা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট শহরের অফিসিয়াল বিশ্বকাপ পোস্টার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে।

জার্সির সামনের অংশে রয়েছে ‘ফুটবল বিশ্বকে একত্র করে’ স্লোগানসংবলিত বিশেষ ব্যাজ। বাঁ হাতায় আছে প্রতিটি শহরের নিজস্ব বিশেষ স্লোগান। পেছনের অংশে রয়েছে শহরের নামসহ বিশ্বকাপের বড় লোগো।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এই জার্সিগুলোতে ফুটবলারদের খেলার উপযোগী উন্নত মানের কাপড় ও ঘাম শুষে নেওয়ার বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সমর্থকদের মাঠে প্রবেশ না করতে দেওয়ার অনুরোধ করেছে আর্জেন্টিনা সরকার

এ ছাড়া নকল প্রতিরোধে যুক্ত করা হয়েছে এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জার্সির আসল মালিকানা যাচাই করা যাবে।

প্রিমিয়াম বক্স সেটে কী থাকছে?

প্রিমিয়াম বক্সের ভেতরে জার্সির পাশাপাশি থাকছে—

  • একটি স্বীকৃতি সনদ (সার্টিফিকেট)
  • বিশেষ ডিজাইনের একটি হ্যাঙ্গার
  • সংগ্রাহকদের জন্য তৈরি একটি বই
  • প্রিমিয়াম প্যাকেজিং বক্স

ফিফা মূলত সীমিত সংস্করণ, উন্নত প্রযুক্তি, প্রিমিয়াম প্যাকেজিং এবং বিশ্বকাপ স্মারক হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে এই জার্সির উচ্চমূল্য নির্ধারণ করেছে।

তবে ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশের মতে, অতিরিক্ত দাম এবং প্রত্যাশামাফিক ডিজাইন না থাকায় ‘হোস্ট সিটি’ জার্সি এখনো সবার কাছে বিশেষ আবেদন তৈরি করতে পারেনি। তবুও বিশ্বকাপের স্মৃতি ধরে রাখতে আগ্রহী সংগ্রাহকদের কাছে এটি ভবিষ্যতে মূল্যবান সংগ্রহে পরিণত হতে পারে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

রোলেক্স হাতে আপ্লুত শাকিব বললেন— ‘এটা এখন অমূল্য’

একটি জার্সির দাম যে কারণে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা

আপডেটের সময়: ০৬:৪৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ মানেই প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে উন্মাদনায় মেতে ওঠা। কিন্তু এমন যদি হয়, একটি জার্সি কিনতেই খরচ করতে হবে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে ফিফার বাজারে আনা বিশেষ ‘হোস্ট সিটি’ জার্সির দাম এখন ঠিক এতটাই।

এর একেকটি জার্সি কিনতে গুনতে হবে প্রায় ৪৬ হাজার টাকা। সাধারণ কোনো জার্সির চেয়ে এটি কেন এত আলাদা? আর কী এমন বিশেষ কারণ আছে, যার জন্য দাম এত বেশি?

গত মে মাসের শুরুর দিকে ফিফা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলোর জন্য বিশেষ ডিজাইনের সীমিতসংখ্যক কিছু জার্সি বিক্রির জন্য ছাড়া হয়। এর প্রতিটির দাম রাখা হয়েছে ৩৭৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৬ হাজার টাকা

এবারের বিশ্বকাপের টিকিট থেকে শুরু করে অন্যান্য সব জিনিসের চড়া দামের মতোই, জার্সির এই দাম নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আর ফুটবলপ্রেমীদের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণও আছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘মাল্টিন্যাশনাল’ একাদশ নিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে নেমেছিল মরক্কো

হোস্ট সিটি জার্সি কী?

এসব জার্সি সংগ্রহে রাখার জন্যই বানানো, অর্থাৎ লিমিটেড এডিশন

সীমিত সংস্করণ, আধুনিক প্রযুক্তি আর সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ—সব মিলিয়ে এই জার্সি শুধু পোশাক নয়, বরং একটি স্মারক হিসেবেই তুলে ধরছে ফিফা। বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজক শহরগুলোর জন্য বিশেষ ডিজাইনের এই জার্সিগুলো বাজারে আনা হয়েছে, যা হোস্ট সিটি জার্সি নামে পরিচিত।

মূলত ১৬টি আয়োজক শহরের প্রতিটির নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ফুটবল উন্মাদনাকে সম্মান জানাতে আলাদা ডিজাইনের এই জার্সিগুলো তৈরি করা হয়েছে।

কেন এত দাম?

এসব মোটেও সাধারণ কোনো জার্সি নয়। প্রতিটি শহরের জন্য মাত্র ৯৯৯টি করে জার্সি তৈরি করা হয়েছে। এগুলো মাঠে খেলার জন্য নয়, বরং ফুটবলপ্রেমীদের সংগ্রহে রাখার জন্য।

আরও পড়ুনঃ  মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের

বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরের প্রতিটির জন্য এই কালেকশনে একটি করে জার্সি থাকছে। ফিফা যদি তাদের তৈরি করা মোট ১৫ হাজার ৯৮৪টি জার্সির সব কটিই বিক্রি করতে পারে, তবে শুধু এই একটি কালেকশন থেকেই তাদের আয় হবে প্রায় ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ ৭০ কোটির বেশি টাকা

ডিজাইনে শহরের নিজস্ব পরিচয়

হোস্ট সিটি জার্সিগুলোর নকশা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট শহরের অফিসিয়াল বিশ্বকাপ পোস্টার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে।

জার্সির সামনের অংশে রয়েছে ‘ফুটবল বিশ্বকে একত্র করে’ স্লোগানসংবলিত বিশেষ ব্যাজ। বাঁ হাতায় আছে প্রতিটি শহরের নিজস্ব বিশেষ স্লোগান। পেছনের অংশে রয়েছে শহরের নামসহ বিশ্বকাপের বড় লোগো।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এই জার্সিগুলোতে ফুটবলারদের খেলার উপযোগী উন্নত মানের কাপড় ও ঘাম শুষে নেওয়ার বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই বড় অর্জন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

এ ছাড়া নকল প্রতিরোধে যুক্ত করা হয়েছে এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জার্সির আসল মালিকানা যাচাই করা যাবে।

প্রিমিয়াম বক্স সেটে কী থাকছে?

প্রিমিয়াম বক্সের ভেতরে জার্সির পাশাপাশি থাকছে—

  • একটি স্বীকৃতি সনদ (সার্টিফিকেট)
  • বিশেষ ডিজাইনের একটি হ্যাঙ্গার
  • সংগ্রাহকদের জন্য তৈরি একটি বই
  • প্রিমিয়াম প্যাকেজিং বক্স

ফিফা মূলত সীমিত সংস্করণ, উন্নত প্রযুক্তি, প্রিমিয়াম প্যাকেজিং এবং বিশ্বকাপ স্মারক হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে এই জার্সির উচ্চমূল্য নির্ধারণ করেছে।

তবে ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশের মতে, অতিরিক্ত দাম এবং প্রত্যাশামাফিক ডিজাইন না থাকায় ‘হোস্ট সিটি’ জার্সি এখনো সবার কাছে বিশেষ আবেদন তৈরি করতে পারেনি। তবুও বিশ্বকাপের স্মৃতি ধরে রাখতে আগ্রহী সংগ্রাহকদের কাছে এটি ভবিষ্যতে মূল্যবান সংগ্রহে পরিণত হতে পারে।