ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও দলটির নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের সম্পদ এবং বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে নতুন করে নানা অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশে থাকা তার বিভিন্ন সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে নিয়মিত অর্থ ভারতে পাচার করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নানকের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শত কোটি টাকার সম্পদের দাবি
প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, নানকের নামে ও বেনামে থাকা সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকার বেশি। রাজধানীর উত্তরা ও মোহাম্মদপুরে থাকা দুটি বহুতল ভবন ছাড়াও বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক বাড়ি ও স্থাপনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুপাতলী, মতাসার, সার্কুলার রোড ও করিম কুটির এলাকায় থাকা এসব সম্পত্তি থেকে নিয়মিত ভাড়া আসে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় নানক ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের হলফনামায় নানক ও তার স্ত্রীর নামে মোট ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় সেই সম্পদের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৯ কোটি টাকা দেখানো হয়।
প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, হলফনামায় নানক দম্পতির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশালের প্রবেশপথে থাকা প্রায় আট একর জমির তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতে অর্থ পাচারের অভিযোগ
দেশে থাকা সম্পত্তি থেকে পাওয়া ভাড়া ও অন্যান্য আয় হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে দাবি করা হয়, বরিশালের দুই ব্যবসায়ী এবং ঢাকার সম্পত্তির আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে বেনাপোল সীমান্তের একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নানকের এক নিকটাত্মীয় তদারক করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অর্থ পাচারের অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।
নানকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য জানতে প্রতিবেদনে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নানকের বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সামনে না আসা পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















