আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকারের ভোট আয়োজন। এরপর ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজ নিজ প্রস্তুতি জোরদার করেছে। বিএনপিতে প্রায় প্রতিটি এলাকায় একাধিক নেতা সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করলেও জামায়াত অনেক এলাকায় আগেই সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠে নামিয়েছে।
বিএনপিতে প্রার্থী বাছাইয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
সংশোধিত আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএনপি ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। দলটির একাধিক সূত্রের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রতি পদে গড়ে ৭ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত নেতা দলের সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত একজনকে বেছে নেওয়াই দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকায় সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
অন্যদিকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে প্রার্থী করার বিষয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিনকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণেও একাধিক নাম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির পক্ষ থেকে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম আলোচনায় রয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)কে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করার কথা জানা গেছে।
অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
দলীয় নেতাদের মতে, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ইশরাক হোসেনকে প্রার্থী করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে হাবিব উন নবী খান সোহেল ও আব্দুস সালামের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়বে জামায়াত-এনসিপি
জাতীয় রাজনীতিতে ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নিজেদের দলীয় শক্তিতে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলীয় প্রতীক না থাকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় জোটগতভাবে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে কোনো এলাকায় শরিক দলগুলোর মধ্যে স্থানীয় সমঝোতার মাধ্যমে একক প্রার্থী দেওয়া হলে কেন্দ্র থেকে আপত্তি থাকবে না।
অধিকাংশ প্রার্থী চূড়ান্ত জামায়াতের
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা নেতারা ইতোমধ্যে দল সমর্থিত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করছেন। দলের দাবি, স্থানীয় সরকারের প্রায় ৭৫ শতাংশ পদের প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত। তবে সব স্তরের প্রার্থীর নাম একসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে চায় দলটি।
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কাছেও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছে জামায়াত। সম্প্রতি দলটি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে এনসিপিও এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামবেন বলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















