মিসরের সাক্কারা সমাধিক্ষেত্রে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো একটি সমাধির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। মিসরীয় ও স্প্যানিশ প্রত্নতাত্ত্বিকদের যৌথ দল খননকাজ চালিয়ে এই আবিষ্কার করেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিচারক ইউনমেনের সমাধি
প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, সমাধিটি পঞ্চম রাজবংশের ফারাও জেদকারে ইসেসির সময়ের বিচারক ইউনমেনের। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও অসন্তোষ মীমাংসার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
ইউনমেনের এই দায়িত্ব থেকে প্রাচীন মিসরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ও সামাজিক শৃঙ্খলার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
বার্সেলোনার অটোনোমাস বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিসরের প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদের যৌথ দল সাক্কারার মারিয়েত এলাকায় সমাধিটি আবিষ্কার করে।
সমাধিতে দুটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কক্ষ
সমাধিটির ভেতরে দুটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কক্ষ রয়েছে। এর একটি ইউনমেনের এবং অন্যটি তাঁর বাবা ইটির জন্য।
ইটি ছিলেন জ্যেষ্ঠ লিপিকার। কৃষিজমি এবং দেবদেবীর উদ্দেশে দেওয়া উপঢৌকন তদারকি করা ছিল তাঁর দায়িত্ব।
সমাধির দেয়ালে প্রাচীন মিসরের দৈনন্দিন জীবন ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিভিন্ন দৃশ্য খোদাই করা হয়েছে। সেখানে কৃষকদের কাজ, সেবকদের উৎসর্গের সামগ্রী বহন এবং মৃত ব্যক্তির জন্য ধর্মীয় আচার পালনের চিত্র দেখা যায়।
চার হাজার বছর পরও টিকে আছে রং
প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, চার হাজার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সমাধির অনেক চিত্র ও অলংকরণে এখনো মূল রং টিকে আছে।
এসব নিদর্শন থেকে প্রাচীন মিসরের শিল্পকৌশল এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রীতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
‘মা’আত’ ধারণার সঙ্গে যোগ
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউনমেনের দায়িত্বের সঙ্গে প্রাচীন মিসরের ‘মা’আত’ ধারণার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সত্য, ন্যায়বিচার, ভারসাম্য ও সামাজিক শৃঙ্খলার সমন্বিত ধারণাকে ‘মা’আত’ বলা হতো।
প্রাচীন মিসরের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এই ধারণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
সাক্কারায় চলছে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন
ফারাও জেদকারে ইসেসি ছিলেন পঞ্চম রাজবংশের শেষ দিকের শাসকদের একজন। তাঁর সময়কাল খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের। সে সময় মিসরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটে।
কায়রোর দক্ষিণে অবস্থিত সাক্কারা ছিল প্রাচীন রাজধানী মেমফিসের বিশাল সমাধিক্ষেত্র। এখানে জোসারের স্টেপ পিরামিডসহ বহু প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে।
নতুন সমাধির আবিষ্কারটি সাক্কারায় চলমান প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের অংশ। প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এসব আবিষ্কার বিশ্বের সামনে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণের চেষ্টা করছে মিসর।
প্রতিবেদকের নাম 



















