চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ভারতের জলসীমায় ভেসে যাওয়া ২০ দিনের এক নবজাতকসহ ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় নৌকার আরও এক বৃদ্ধ যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রবল স্রোতে মাঝনদীতে নৌকাডুবি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা জোহরপুর-টেকের উদ্দেশে রওনা হয়। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর পদ্মার তীব্র স্রোত ও দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
এ সময় নৌকায় থাকা সব যাত্রী পানিতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে ছিলেন সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির মাত্র ২০ দিন বয়সী কন্যাশিশু তানিশা।
নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে ১০ জন বাংলাদেশি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের জলসীমায় চলে যান।
নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল ২০ দিনের তানিশা
ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগর এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী শ্যামলাল মণ্ডলের বরাতে জানা যায়, পানিতে ভাসতে থাকা লোকজনকে দেখতে পেয়ে বিএসএফের খানদোহা ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
পরে তানিশাসহ ১০ জনকে নদী থেকে উদ্ধার করে তীরে নেওয়া হয়। উদ্ধারের সময় শিশুটি প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত তানিশাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে।
পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফেরত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, নৌকাডুবির খবর পাওয়ার পরপরই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
পরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা
নবজাতকসহ ১০ বাংলাদেশিকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার এবং শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘটনায় বিএসএফের ভূমিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে।
অনেকেই এই ঘটনাকে সীমান্তের বিভাজন ছাড়িয়ে মানবিক সহায়তার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে কেউ কেউ বিএসএফকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
পদ্মার উত্তাল স্রোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ১০ জনের জীবিত উদ্ধার এবং ২০ দিনের শিশুটির সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া স্বজনদের জন্যও স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। তবে নিখোঁজ বৃদ্ধের সন্ধান এখনো মেলেনি।
প্রতিবেদকের নাম 


























