ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভর্তি না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হ্যাক রক্তমাখা সেই জাতীয় পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন জুলাইযোদ্ধা শেখ আজিজুর স্টেশনে ট্রেন রেখে উধাও চালক, এক ঘণ্টা পর ফিরতেই গন্তব্যের পথে সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস পুলিশ পরিচয়ে গভীর রাতে রিসোর্টে ডাকাতি, কর্মচারীদের জিম্মি করে লুট জিয়ার সৈনিকরা গত ১৬-১৭ বছরে শেখ হাসিনার একটি চুলও বাঁকা করতে পারেনি: সারজিস আলম  ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল, কবে, কখন ও কোথায় হবে ঐতিহাসিক ম্যাচ? বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে: সারজিস বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে ফলপ্রসূ আলোচনা: ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর বগুড়ায় ক্লিনিককে ৬০ হাজার, ভুয়া চিকিৎসককে ১ লাখ টাকা জরিমানা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৬৫তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

মানবসৃষ্ট বনেই চমক, সবুজায়নে নতুন দৃষ্টান্ত গড়ছে চীন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ সময় দেখুন

 

বিশ্বজুড়ে বন উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগের মধ্যেই কৃত্রিম বন সৃষ্টিতে নতুন সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে চীন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির মানবসৃষ্ট বনগুলো প্রাকৃতিক বনের তুলনায় অনেক দ্রুত সবুজ হয়ে উঠছে এবং পাতার বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেশি হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক সাময়িকী জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে চীন বিস্তীর্ণ মরুভূমি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বনভূমির পাতার বৃদ্ধি আশপাশের প্রাকৃতিক বনের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি

জলবায়ুবিজ্ঞানী ইউহাং লুওর নেতৃত্বে গবেষকরা দীর্ঘ সময়ের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল গাছের প্রজাতি রোপণ এবং বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি—এই দুই কারণ কৃত্রিম বনের দ্রুত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুনঃ  মোদি সরকারের পতনের ডাক রাহুলের, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রশংসা

মরুকরণ ঠেকাতে চীন ১৯৭৮ সালে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে বিশাল আকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করে। ‘গ্রিন গ্রেট ওয়াল’ বা সবুজ প্রাচীর নামে পরিচিত এই প্রকল্পের আওতায় কয়েক দশক ধরে শত কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছে। শুরুতে ধারণা ছিল, একজাতীয় বন দীর্ঘমেয়াদে তেমন ভালোভাবে বিকশিত হবে না। তবে গবেষণার ফলাফল সেই ধারণাকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  হবিগঞ্জে হামলার পর এনসিপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

গবেষকদের ভাষ্য, কৃত্রিম বনের গাছগুলো তুলনামূলক কম বয়সী এবং দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হওয়ায় তারা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত শোষণ করতে সক্ষম হচ্ছে। এর ফলে পাতার বিস্তারও দ্রুত ঘটছে এবং বনভূমি অল্প সময়েই ঘন হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্বন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বন এখনও বেশি কার্যকর। কারণ প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশ দীর্ঘ সময় ধরে কার্বন ধরে রাখতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুনঃ  আদালতে আবেগঘন মন্তব্য লতিফ সিদ্দিকীর, ‘ফাঁসি দিয়ে দিন, আমি প্রস্তুত’

গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বন মাটির ক্ষয় রোধ, মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূলিঝড় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রাথমিক পর্যায়ে কার্বন শোষণের ক্ষেত্রেও এসব বন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু বেশি গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়। কৃত্রিম বনকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে স্থানীয় প্রজাতির গাছের সংখ্যা বাড়ানো, জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এবং বনের সঠিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা প্রয়োজন। তাহলেই এসব বন ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভর্তি না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হ্যাক

মানবসৃষ্ট বনেই চমক, সবুজায়নে নতুন দৃষ্টান্ত গড়ছে চীন

আপডেটের সময়: ০৮:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

বিশ্বজুড়ে বন উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগের মধ্যেই কৃত্রিম বন সৃষ্টিতে নতুন সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে চীন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির মানবসৃষ্ট বনগুলো প্রাকৃতিক বনের তুলনায় অনেক দ্রুত সবুজ হয়ে উঠছে এবং পাতার বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেশি হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক সাময়িকী জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে চীন বিস্তীর্ণ মরুভূমি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বনভূমির পাতার বৃদ্ধি আশপাশের প্রাকৃতিক বনের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি

জলবায়ুবিজ্ঞানী ইউহাং লুওর নেতৃত্বে গবেষকরা দীর্ঘ সময়ের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল গাছের প্রজাতি রোপণ এবং বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি—এই দুই কারণ কৃত্রিম বনের দ্রুত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক রাষ্ট্রপতি নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্য আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মরুকরণ ঠেকাতে চীন ১৯৭৮ সালে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে বিশাল আকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করে। ‘গ্রিন গ্রেট ওয়াল’ বা সবুজ প্রাচীর নামে পরিচিত এই প্রকল্পের আওতায় কয়েক দশক ধরে শত কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছে। শুরুতে ধারণা ছিল, একজাতীয় বন দীর্ঘমেয়াদে তেমন ভালোভাবে বিকশিত হবে না। তবে গবেষণার ফলাফল সেই ধারণাকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সরকারের আশ্বাসে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত ককরোচ জনতা পার্টির

গবেষকদের ভাষ্য, কৃত্রিম বনের গাছগুলো তুলনামূলক কম বয়সী এবং দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হওয়ায় তারা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত শোষণ করতে সক্ষম হচ্ছে। এর ফলে পাতার বিস্তারও দ্রুত ঘটছে এবং বনভূমি অল্প সময়েই ঘন হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্বন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বন এখনও বেশি কার্যকর। কারণ প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশ দীর্ঘ সময় ধরে কার্বন ধরে রাখতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুনঃ  মনুষ্যসৃষ্ট সংকটে হুমকির মুখে সুন্দরবন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার তাগিদ

গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বন মাটির ক্ষয় রোধ, মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূলিঝড় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রাথমিক পর্যায়ে কার্বন শোষণের ক্ষেত্রেও এসব বন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু বেশি গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়। কৃত্রিম বনকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে স্থানীয় প্রজাতির গাছের সংখ্যা বাড়ানো, জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এবং বনের সঠিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা প্রয়োজন। তাহলেই এসব বন ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।